মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় চীন, রাশিয়া ও ভারতের নেতারা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় চীন, রাশিয়া ও ভারতের নেতারা

ডেইলি খবর ডেস্ক: মাযিুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের পাল্টা শক্তি হিসেবে পরিচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)। মার্কিন প্রভাবকে মোকাবিলায় সোমবার কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অন্য রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে মিলিত হন চীন, রাশিয়া ও ভারতের নেতারা। মধ্য এশিয়ার দেশটির রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন কোরিয়া হেরাল্ড।প্রতিদিনের খবর পড়া

রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের একটিতে পুতিন ও শি জিনপিং বৈঠক করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা স্থায়ী করার জন্য মস্কো প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পুতিন। আজ মঙ্গলবার পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এদিনই এসসিওর আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরু হবে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পার হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরান দুই দেশই পশ্চিমা নয় এমন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্‌ম হিসেবে এই সম্মেলনকে দেখছে। ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ মিলে নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরাম হিসেবে এসসিও প্রতিষ্ঠা করে। গত ২৫ বছরে সংস্থাটির আকার ও প্রভাব বেড়েছে। তবে এর লক্ষ্য ও কর্মসূচি এখনো অনেকটাই অস্পষ্ট এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এর পরিচিতিও তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য ১০টি দেশ। তারা হলো রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। আরও অনেক দেশ ‘সংলাপ অংশীদার’ হিসেবে এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত।

রাশিয়ার পাশাপাশি চীনও এসসিওকে জি৭-এর মতো পশ্চিমাপন্থী সংগঠনগুলোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং সংস্থাটির পরিধি ও প্রভাব বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে বলেছে, সংস্থাটি সফলভাবে ‘আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি নতুন পথ অনুসন্ধান করেছে’। রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে একটি বিকল্প বিশ্বব্যবস্থার ধারণা প্রচার করে আসছে।

তবে অনেক এসসিও সদস্য দেশের জন্য এই সম্মেলন এমন একটি সুযোগ, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি সত্ত্বেও বৈশ্বিক পরিসরে তাদের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রয়েছে- এটি তুলে ধরা সম্ভব হবে। এসসিও কোনো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক বা সামরিক জোট নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে এবং প্রত্যেক দেশের নিজস্ব স্বার্থও আলাদা।রাজনৈতিক খবর পড়া

বিশেষ করে ভারতের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সম্মেলন থেকে বড় ধরনের বাস্তব ফলাফলের চেয়ে এর দৃশ্যমানতা ও কৌশলগত বার্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চীনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এমন এই ফোরামে পাকিস্তানও সদস্য। চীন এবং পাকিস্তান দুই দেশই ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী। কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক দিনকর পেরি বলেন, এসসিও ভারতকে এমন একটি অঞ্চলে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দেয়, যা বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্রমেই প্রভাবিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত তার স্বার্থ রক্ষা, পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণ এবং নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পায়। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!