ডেইলি খবর ডেস্ক: ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি সম্ভবত তা করব।‘ খবর টাইমের।ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি কেন তা (মার্কিন সেনা প্রত্যাহার) বিবেচনা করব না? ইতালি আমাদের কোনো সাহায্যই করেনি এবং স্পেন তো জঘন্য ছিল। একেবারে জঘন্য।’ তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধে ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেনি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের ব্যাপারে তাদেরকে (ইউরোপ) সাহায্য করেছিলাম, কিন্তু যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তখন তারা ছিল না। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।’ইউএস ডিফেন্স ম্যানপাওয়ার ডেটা সেন্টারের (ডিএমডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইতালিতে ১২ হাজার ৬৬২ জন এবং স্পেনে ৩ হাজার ৮১৪ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিলেন।ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারের ভাবনা নিয়ে স্পেন এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এটির বিরোধিতা করেছেন। তিনি ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসাকে বলেন, এর পেছনের কারণ আমি বুঝতে পারছি না। যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো আমরা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করিনি। আমরা জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত করতে হরমুজ প্রণালিতে একটি অভিযান পরিচালনার প্রস্তাবও দিয়েছি। মার্কিন সামরিক বাহিনীও এ প্রস্তাবটির অত্যন্ত প্রশংসা করেছিল।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য টাইম ইতালি ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডিরিখ মের্জের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিরোধের জেরে গত বুধবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিতে সেনা সংখ্যা কমানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এদিন ট্রাম্প মের্জকে ইরান যুদ্ধে ‘হস্তক্ষেপ’ না করে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মের্জ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নেতারা অপমান করছে।’ এমন মন্তব্য করেই ট্রাম্পের রোষানলে পড়েন তিনি।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং এর ফলস্বরূপ হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার প্রধান ইউরোপীয় মিত্রদের বিরোধ গভীর হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারকে বিপর্যস্ত করেছে।স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই এ যুদ্ধের কড়া সমালোচক। তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘অবৈধ’ বলে বর্ণনা করেছেন। স্পেন ইরানকে আক্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে প্রবেশাধিকার দেয়নি এবং এই সংঘাতে জড়িত মার্কিন বিমানগুলোর জন্য তাদের আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছে।একসময় ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও ইরান যুদ্ধ থেকে ইতালিকে দূরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ইতালি মার্কিন সামরিক বিমানকে সিসিলির একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ইতালি আমাদের পাশে ছিল না, আমরাও তাদের পাশে থাকব না।এ ছাড়া পোপ লিওর সঙ্গে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বিবাদকে কেন্দ্র করে ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আজ শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিণতি প্রতি ঘণ্টায় নাটকীয়ভাবে আরও খারাপ হচ্ছে।’
অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হওয়ায় জ্বালানি, পরিবহণ, উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহকে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি হচ্ছে শ্বাসরুদ্ধ।হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার এবং টেকসই শান্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন ‘সংলাপ ও পদক্ষেপ’ গ্রহণের আহ্বান জানান জাতিসংঘের মহাসচিব। ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :