ডেইলি খবর ডেস্ক: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এশীয় রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্যের মূলে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে, যা এশীয় দেশগুলোকে চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চীন ও রাশিয়া এশিয়ায় তাদের প্রভাব বলয় বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, যার ফলে মার্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত অনেক দেশই এখন তাদের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করতে শুরু করেছে।
এশীয় দেশগুলো বিশেষ করে ভারত, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো মার্কিন নিরাপত্তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধি করছে, তখন রাশিয়া ও চীন কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সহায়তার ঝুলি নিয়ে এসব দেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এর ফলে এশীয় মিত্রদের মধ্যে ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যা মূলত ওই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব হ্রাসের স্পষ্ট লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই যুদ্ধের কারণে গঠিত ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থা’য় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার এশীয় বলয় হারাতে বসছে। যেখানে এক সময় ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রধান সামরিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার ছিল, সেখানে এখন মস্কো ও বেইজিংয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশগুলো এখন মার্কিন প্রতিপক্ষের সাথে নতুন করে সমীকরণ মেলাচ্ছে।
এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক মেরুকরণ সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ওয়াশিংটন শীঘ্রই তাদের কূটনৈতিক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন না করে, তবে এশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারা এক সময়ের বিশ্বস্ত মিত্রদের ছাড়াই একাকী হয়ে পড়তে পারে।
এই যুদ্ধ কেবল ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে পশ্চিম থেকে সরিয়ে পূর্বের দিকে নিয়ে যাওয়ার অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতীকী ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :