বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

রাশিয়ায় মোদি, ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৪, ১০:১২ এএম

রাশিয়ায় মোদি, ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র?

ইন্দো-রাশিয়ার ২২তম সামিটে যোগ দিতে দুই দিনের রাশিয়া সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৮ জুলাই) তিনি মস্কো বিমানবন্দরে পৌঁছান। রাশিয়া সফরের পর মোদি যাবেন অস্ট্রিয়ায়। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদির এই সফরকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখছে পুরো বিশ্বের কূটনীতি। ভারতে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এটি মোদির প্রথম রাশিয়া সফর।
মস্কো বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানান রাশিয়ার প্রথম ডেপুটি প্রাইমমিনিস্টার ডেনিস ম্যানটুরোভ। সেখানে মোদিকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। একই গাড়িতে মোদি ও মানটুরোভ এরপর পৌঁছান মস্কোর হোটেলে। সেখানে মোদিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা। বর্ণাঢ্য আয়োজনে নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানানো হয়। 
মোদির রাশিয়া সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গত বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি জানান, ইউক্রেন আক্রমণের বিষয়ে একজোট হয়ে রাশিয়াকে জবাবদিহি করানোর বিষয়ে তার দেশ ভারতের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখছে। 
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিষয়টা স্পষ্ট যে মোদি ও ভ্লাদিমির পুতিনকে একসঙ্গে দেখে যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেউই খুশি হবে না। কারণ ওই দুই দেশই মনে করে, ইউরোপে অস্থিরতার কারণ হলো ইউক্রেনে রুশ হামলা এবং এর জন্য দায়ী পুতিন। 
গত রোববার মোদি এবং পুতিনের মধ্যে আলোচ্য বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রাশিয়ার সরকারি সংবাদ চ্যানেল ভিজিটিআরকেকে বলেন, ‘এটা (মোদির) সরকারি সফর। আমরা মনে করি, আলোচ্যসূচির বাইরের বহু বিষয় নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধান কথা বলবেন।রুশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলেও জানান তিনি।
টিভি চ্যানেলের সাক্ষাত্কারে পেশকভকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পশ্চিমা বিশ্ব মোদির রাশিয়া সফরকে কীভাবে দেখছে? জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, ‘ওরা হিংসায় জ্বলছে। তার মানে ওরা নিবিড়ভাবে এই সফরের দিকে নজর রাখছে। তাদের এই নজরদারিই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। বিবিসি বলছে, মোদির রাশিয়া সফর একাধিক পশ্চিমা দেশের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আর কী অর্থ হতে পারে, সেই বিষয়ে সন্দিহান পশ্চিমা দেশগুলো। 
লন্ডনের কিংস কলেজে সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের প্রফেসর ক্রিস্টোফ জাফরেলট জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির রাশিয়া সফরের ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। তার মতে, ‘ভারত রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে খুবই আগ্রহী। এবং সেটা শুধু তাদের (ভারতের) সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতার কারণেই নয়, ভারত একটা বহুমেরু বিশ্বকে তুলে ধরতে চায় যেখানে তারা (ভারত) সব অংশীদারের সঙ্গে তার নিজের স্বার্থ প্রচার করার মতো অবস্থায় আছে। ভারতের পক্ষ থেকে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের নিন্দা না করার বিষয়ে বহুবার দুঃখ প্রকাশ করেছে বহু পশ্চিমা দেশ। ভারতের অনেকে বিশ্বাস করেন, রাশিয়ার প্রসঙ্গ এলে নিজেদের নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলে পশ্চিমা মিডিয়া।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা মনে করে কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য তাদের চেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে ভারতের এমন অবস্থান।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!