ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তির গুঞ্জনের মধ্যেই ইরানের জব্দকৃত কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড় দিতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের একের পর এক হামলার মুখে পড়ে শেষমেশ এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে আবুধাবি।শনিবার (১৩ জুন) নির্ভরযোগ্য চারটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তার এই মন্তব্যের পরপরই ইরানের আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির শত কোটি ডলার ছাড়ের রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক দুটি সূত্র দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় করতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ভিন্ন দুটি সূত্রের দাবিজব্দকৃত এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মূলত আমিরাতের ওপর ইরানের হামলা পুরোপুরি বন্ধের শর্তেই এই গোপন সমঝোতা হয়েছে।
অবশ্য রয়টার্সের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ `ভিত্তিহীন` দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে আবুধাবি। বিবৃতিতে বলা হয়, "ইরানের জব্দকৃত কোনো অর্থ আমিরাতের মাধ্যমে স্থানান্তর বা ছাড় দেওয়া হয়নি।" একই সাথে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।আমিরাতের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ইউএই আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগসহ যেসব প্রচেষ্টা অঞ্চলের জনগণকে সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করবে, আবুধাবি তা সমর্থন করে।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গত শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন, "চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের জব্দ করা সমস্ত অর্থ একবারে ছাড় দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য চুক্তিটি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে ইরান নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা পায়।" তবে এই পুরো বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :