ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে রয়েছেন। প্রথমদিনের আলোচনায় বাণিজ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বৈঠকের শুরুতে ডনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজেদের সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় দুই নেতা একে অপরের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে একই সঙ্গে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হলে তা খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন দুই নেতা: রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘আমার বন্ধু বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে অসাধারণ ভবিষ্যৎ গড়ব। চীনের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনি অসাধারণ কাজ করেছেন। আপনি একজন মহান নেতা। ট্রাম্প আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শি জিনপিং ও চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ানকে হোয়াইট হাউসে সফরের আমন্ত্রণও জানান। অন্যদিকে শি বলেন, বিশ্ব যখন নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, তখন ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিংয়ে সাক্ষাৎ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারি? তিনি আরও বলেন, আমাদের জনগণের কল্যাণ এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য আমরা কি এক সঙ্গে কাজ করতে পারি?জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা: চীন ট্রাম্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং, যা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য বিরল সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পকে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
দুই দেশের সম্পর্ক: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শি ও ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ককে গঠনমূলক, কৌশলগত এবং স্থিতিশীল হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই চীনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক রয়েছে এবং বর্তমানে এই সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোর একটি। শি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ তাদের মতবিরোধের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সাল যেন চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক বছর হয়ে ওঠে।
বাণিজ্য আলোচনা: প্রথম দিনের আলোচনার মূলে ছিলো বাণিজ্য। ট্রাম্প তার সফরে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সিইওকে সঙ্গে নিয়েছেন। যাদের ভেতর রয়েছেন, টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যাপল প্রধান টিম কুক, এনডিভিয়া প্রধান এবং বোয়িং প্রধান। প্রথম দিনের সংলাপে উভয়দেশের বাণিজ্য ইস্যুই মূল গুরুত্ব পেয়েছে। শি বলেন, চীনের সুযোগের দরজা আরও উন্মুক্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, চীন মার্কিন সয়াবিন, গরুর মাংস ও বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দেবে। মার্কিন গনমাধ্যমে প্রকশিত খবরে বলা হয় চীন ২০০ টি বোয়িং কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ সমাধানে একটি যৌথ বাণিজ্য বোর্ড গঠনের কথাও আলোচনা হচ্ছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে উভয়দেশের সম্মতিতে শুল্ক স্থগিত করা হয়। সেসময় চীন প্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিরল খনিজ রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র তার প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিরল খনিজের জন্য চীনের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কবার্তা: তাইওয়ান প্রশ্নে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে পরিচালনা না করলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করলেও তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন ও স্বশাসিত রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, তাইওয়ান প্রশ্ন চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।তিনি আরও বলেন, এটি সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ এমনকি যুদ্ধও হতে পারে। তবে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প তাইওয়ান প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তীত থাকবে।
ইরান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর বিনিময়ে বেইজিং তাইওয়ানসহ অন্যান্য কূটনৈতিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় চাইতে পারে। ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :