শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

মার্কিন-ইসরায়েলের ৬ মাসের ইরান যুদ্ধের ৬ পরিণতি

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

মার্কিন-ইসরায়েলের ৬ মাসের ইরান যুদ্ধের ৬ পরিণতি

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর ছয় মাস পরও যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট সমাপ্তি দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সংঘাতকে একসময় ‘ছোট্ট অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, সেটিই এখন তার প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে উঠেছে।

ইরান আত্মসমর্পণ করেনি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত এবং যুদ্ধ শেষ করার কোনো পরিষ্কার পথও নেই।
ইরানের ওপর সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রেখে যুক্তরাষ্ট্র আবার অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্রদের জানিয়েছেন, ‘আপাতত’ নতুন হামলা চালানোর সম্ভাবনা কম। ছয় মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধের এ অবস্থায় এসে ছয়টি বড় প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

যা এক বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো—
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে

রয়টার্স বা ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্পের অনুমোদন হার ৪০ শতাংশ থেকে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও চাপে পড়েছে। সংঘাতের পক্ষে সমর্থন মাত্র ৩১ শতাংশ।

আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ যায়। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমেছে। তবে আশঙ্কার তুলনায় বিশ্ব অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরাজিত নয় ইরান

ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষতি হলেও দেশটি এখনো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে সক্ষম।

যুদ্ধের পাশাপাশি দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য সংকট আরো গভীর হয়েছে।
যুদ্ধের ছয় মাস পরে এসে ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়ানোর পরপরই প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান।

নতুন এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতির ‘মূল চালিকাশক্তি’ বিচ্ছিন্ন করে দেবে বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন। তবে এর জবাবে তেহরান বলছে, তাদের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররা ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

অস্থির মধ্যপ্রাচ্য

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের ফলে পরিবহন ও বীমা ব্যয়ও বেড়েছে।

চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬ হাজার নাবিকসহ ৪০০টি জাহাজ আটকা পড়েছে।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গেস বলেন, সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তা অনুভূত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন দেখা দিলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরো ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি

হামলায় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকরা সাইটগুলোতে ফিরতে না পারায় কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় চাপ

দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, ড্রোন ও বিপুল পরিমাণ নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!