মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

এবার পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ হামলা, মস্কোর বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম

এবার পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ হামলা, মস্কোর বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ

ডেইলি খবর ডেস্ক: পোল্যান্ড ও ইউক্রেন সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে রুশ হামলার ঘটনায় মস্কোর বিরুদ্ধে ‘উসকানি ও উত্তেজনা বাড়ানোর’ অভিযোগ তুলেছে দুই দেশ। হামলায় ট্রেনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভ থেকে ওয়ারশগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ ট্রেনটির ইঞ্জিনে হামলা চালিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ওই হামলার সময় কাছাকাছি ইয়াগোদিন স্টেশনে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালক ডেভিড পেট্রায়াসও ছিলেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষ।

রেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জনসন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্যদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং সাবেক ইউরোপীয় নেতাদের বহনকারী একটি কূটনৈতিক ট্রেন ওই সময় ইয়াগোদিন স্টেশনে অবস্থান করছিল। একই সময়ে পেট্রায়াসকে বহনকারী আরেকটি ট্রেনও সেখানে ছিল।

তবে হামলার শিকার ট্রেন থেকে ওই কর্মকর্তারা ঠিক কত দূরে ছিলেন, তা জানায়নি ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষ।

রোববার নিরাপত্তা বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, রাশিয়ার ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে এবং এর উদাহরণ ক্রমেই পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছে চলে আসছে।

রাশিয়ার জেটচালিত দূরপাল্লার হামলাকারী ড্রোনের ব্যবহার বাড়ার বিষয়েও সতর্ক করেন টাস্ক। তার মতে, এসব ড্রোন আগের প্রপেলারচালিত ড্রোনের তুলনায় অনেক দ্রুতগতির এবং প্রতিহত করাও কঠিন।

রোববার কিয়েভে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেন, এই ‘উত্তেজনা’ ইউক্রেনের প্রতি মিত্রদের সহায়তা দ্বিগুণ করার কারণ হওয়া উচিত।

সিকোরস্কি বলেন, হামলাটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক শ মিটার দূরে ঘটেছে। ফলে এটি পোলিশ নাগরিকদের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

এর আগেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে পড়েছে। ২০২২ সালে পোল্যান্ডের প্রজেভোদোভ গ্রামে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে দুইজন নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলাটিকে ‘এলোমেলো ও অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। কোন ‘বিকৃত যুক্তি’ থেকে রাশিয়া এ হামলা চালিয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় রেলকর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

এদিকে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় দূরপাল্লার হামলা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের এসব হামলার কারণে রাশিয়ায় ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলারের বেশি হয়ে গেছে।

গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস শিল্পে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি রেশনিং এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া জুলাইয়ে ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে।

আয়ারল্যান্ড ওপেন গলফ টুর্নামেন্টের পাশে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে—রাশিয়ায় ডিজেল জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে।’

তবে কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেলশিল্প শুধু মস্কোর ইউক্রেনবিরোধী চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে অর্থ জোগায় না, বরং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও সরবরাহ করে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!