সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

জার্মান পুরুষদের বিদেশে থাকতে সেনাবাহিনীর অনুমতি লাগবে নেপথ্যে কী

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:২৪ এএম

জার্মান পুরুষদের বিদেশে থাকতে সেনাবাহিনীর অনুমতি লাগবে নেপথ্যে কী

ডেইলি খবর ডেস্ক: জার্মানিতে ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষদের দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকতে চাইলে আগে থেকেই সেনাবাহিনী থেকে অনুমতি নিতে হবে। দেশটিতে নতুন আইনের পরিবর্তনের ফলে এমন বিধানই চালু হয়েছে। এই আইনে স্বেচ্ছায় সামরিক সেবার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জার্মান সরকার ‘মিলিটারি সার্ভিস মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’—নামের এই আইনটি ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করেছে। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর রাশিয়ার হুমকির প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য। বিবিসিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে থাকতে হলে আগাম অনুমতি নিতে হবে।
বর্তমান আইনে সাধারণত এই ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গতকাল শুক্রবার ‘ফ্রাঙ্কফুর্টার রুন্ডশাউ’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের আগে এই বাধ্যবাধকতাটি প্রায় নজরের বাইরে ছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বলেন, এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো ‘একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর সামরিক নিবন্ধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।’ তিনি যোগ করেন, ‘জরুরি পরিস্থিতিতে আমাদের জানতে হবে, কারা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশে অবস্থান করছে।’ তবে বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, এই নিয়ম তরুণদের ওপর ‘দূরপ্রসারী’ প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, ‘অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে’ ছাড় সংক্রান্ত বিধিমালা আংশিকভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে।
সর্বশেষ এই সংশোধনের আগে, বিদেশে দীর্ঘ সময় থাকার বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক ছিল কেবল তখনই, যখন জার্মানি জরুরি জাতীয় প্রতিরক্ষা বা মোবিলাইজেশনের অবস্থায় থাকত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, অনুরূপ একটি বিধান ‘স্নায়ুযুদ্ধের সময় কার্যকর ছিল, তবে বাস্তবে এর কোনো প্রাসঙ্গিকতা ছিল না।’
এদিকে, ‘মিলিটারি সার্ভিস মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’-এ ২০৩৫ সালের মধ্যে সক্রিয় সেনা সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে, গত ডিসেম্বরে জার্মান পার্লামেন্ট স্বেচ্ছাসেবী সামরিক সেবা চালুর পক্ষে ভোট দেয়। ফলে জানুয়ারি থেকে সব ১৮ বছর বয়সী নাগরিককে একটি প্রশ্নপত্র পাঠানো হচ্ছে, যাতে তারা সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী কি না, তা জানতে চাওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তাদের শারীরিক সক্ষমতার মূল্যায়নও বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা সেবার জন্য উপযুক্ত কি না, তা নির্ধারণ করা যায়। নারীরা স্বেচ্ছায় সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে পারেন, তবে জার্মানির সংবিধান অনুযায়ী তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করা যাবে না। বর্তমানে পরিকল্পনা স্বেচ্ছাসেবী সেবার ওপর নির্ভরশীল হলেও, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে বা পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক না পাওয়া গেলে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার একটি রূপ বিবেচনা করা হতে পারে।
আইনটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার সময় অনেক তরুণ এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেন। প্রতিবাদের এক আয়োজক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের জীবনের ছয় মাস ব্যারাকে বন্দী থেকে ড্রিল আর আনুগত্যের প্রশিক্ষণ নিতে চাই না, কিংবা হত্যা শেখার শিক্ষা নিতে চাই না।’সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!