শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত পথ ছাড়লেই ‘কঠোর জবাব’, সতর্ক করল ইরান

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত পথ ছাড়লেই ‘কঠোর জবাব’, সতর্ক করল ইরান

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সব তেলবাহী জাহাজের জন্য নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তারা জানায়, সব জাহাজকে ইরানের নির্ধারিত ও অনুমোদিত পথ ব্যবহার করতে হবে। এই নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে ‘কঠোর সামরিক জবাবের’ মুখে পড়তে হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই ঘোষণার পর আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে হয়। ফলে ইরানের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া যৌথ সামরিক কমান্ড এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর এক দিন আগে, বুধবার কাতারে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিবিদদের মধ্যে বৈঠক হয়। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি কফিনের ছবি প্রচার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, কফিনটিতে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য সেটি ইমাম খোমেনি হুসাইনিয়ায় নেওয়া হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজ কাপড়ে ঢাকা কফিনের পাশে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন এবং শোক প্রকাশ করছেন। সপ্তাহজুড়ে সরকারি জানাজা ও শোক কর্মসূচি শনিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তেলবাহী জাহাজ নিয়ে ইরান কেন এই সময়ে নতুন সতর্কবার্তা দিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বাহরাইনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নেতারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল অবাধ রাখার ব্যাপারে নিজেদের যৌথ অঙ্গীকারের কথা আবারও জানিয়েছেন।’ ধারণা করা হচ্ছে, এই বক্তব্যেই অসন্তুষ্ট হয়েছে ইরান। ইরানের সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম না মানা, অনুমোদিত পথ থেকে সরে যাওয়া অথবা ইরানের নৌচলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করলে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এতে নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তারও দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এর আগে একটি অন্তর্র্বতী চুক্তির আওতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের ফি ছাড়া জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। তবে ইরান স্পষ্ট জানায়, কোন পথে জাহাজ চলবে, সেই নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। পরে ওই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়া হবে বলেও জানায় তেহরান। এতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নৌচলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশ বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানের ফি আদায়ের পরিকল্পনা তারা মেনে নেবে না। একই সময়ে ওমান এবং জাতিসংঘের একটি সংস্থা ওমান উপকূলের কাছে বিকল্প একটি নৌপথ চালুর চেষ্টা করছে। এর জেরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার বাড়তে শুরু করেছে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই জলপথ দিয়ে অন্তত ২৫৮টি জাহাজ চলাচল করেছে। একই সময়ে ইরান দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১৩৮টি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড বৃহস্পতিবার এক অনলাইন আলোচনায় বলেন, ২৫ ও ২৭ জুন ইরানের হামলার ঘটনাগুলো যেন এখন অনেকেই ভুলে গেছেন। তিনি বলেন, হামলার পর জাহাজ চলাচল কিছুটা ধীর হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বর্তমানে সেই তুলনায় চলাচল কম রয়েছে। জাহাজ পরিচালনাকারীদের এখন দুটি পথের মধ্যে একটি বেছে নিতে হচ্ছে। হয় ইরানের শর্ত মেনে চলতে হচ্ছে, নয়তো ওমানের দিকের সেই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী নজরদারি করছে। রিচার্ড মিড বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই স্থিতিশীল নয়। প্রতি ঘণ্টায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে জাহাজের রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এটিকে নতুন স্বাভাবিক অবস্থা বলা যাবে না।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, রেভল্যুশনারি গার্ডের নির্দেশ অমান্য করায় একটি বিদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজটির অবস্থান, আকৃতি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং কয়েক মাস ধরেই সেখানে অবস্থান করছিল। এদিকে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। বুধবারের বৈঠকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী দফার বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করছে পাকিস্তান।ফাইল ছবি
 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!