বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

লেবাননে ্ইরায়েলি হামলা-সংঘাত, পুনরায় যুদ্ধ শুরুর হুমকি ইরানের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

লেবাননে ্ইরায়েলি হামলা-সংঘাত, পুনরায় যুদ্ধ শুরুর হুমকি ইরানের

ডেইলি খবর ডেস্ক: লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণের মুখে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনে পড়ল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতি। এর মধ্যেই তেহরান পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দিয়েছে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার পর ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করেছে।
তবে গতকাল বুধবারই এই চুক্তির দুর্বলতাগুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। গত মার্চের শুরুতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর থেকে এদিন লেবাননে—এমনকি বৈরুতের জনবহুল কেন্দ্রস্থলেও—সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার অন্তত ১৮২ জন নিহত এবং প্রায় ৯০০ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের দাবি,হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের এই লড়াই গত মঙ্গলবার রাতে স্বাক্ষরিত মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। পাকিস্তানের মাটিতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই যুক্তির প্রতিধ্বনি করেছেন।
জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘লেবাননের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বলেনি যে লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ। যদি ইরান লেবানন ইস্যুতে এই আলোচনা ভেস্তে দিতে চায়, তবে সেটি একান্তই তাদের সিদ্ধান্ত।’
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আলোচনার যে কার্যকর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল তা ইতিমধ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে, যার ফলে পরবর্তী আলোচনা এখন অযৌক্তিক। গালিবাফ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন, লেবাননে অব্যাহত হামলা, ইরানের আকাশসীমায় ড্রোনের অনুপ্রবেশ এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার অস্বীকার করা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হওয়া এই চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে আরও সংশয় তৈরি করেছেন এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি জানান, ইরানের প্রস্তাবিত ১০-দফা পরিকল্পনা এবং হোয়াইট হাউস যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে শর্তগুলোতে সম্মত হয়েছিল, তা এক নয়।
লেবাননে হামলার তীব্রতাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বৈরুত জুড়ে চালানো এই হামলায় আতঙ্ক ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, গত মাসে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে এ পর্যন্ত এক হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল যদি তাদের হামলা বন্ধ না করে তবে তারা পাল্টা জবাব দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও জানিয়েছে যে তাদেরও জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের মোকাবিলা করতে তারা প্রস্তুত এবং তাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। সামরিক বাহিনীর মতে, লেবাননে হিজবুল্লাহকে ‘নিরস্ত্র’ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, সংঘাত যদি আবার ছড়িয়ে পড়ে তবে মার্কিন বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!