রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের হামলায় নিহত ৪১

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম

লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের হামলায় নিহত ৪১

ডেইলি খবর ডেস্ক: দুই সপ্তাহ আগে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ আরও একবার লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ শনিবারের (২ মে) এই নতুন দফার হামলার ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। এর ফলে ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৬৫৯ জনে এবং আহতের সংখ্যা ৮ হাজার ১৮৩ জন। খবর আলজাজিরার।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নাবাতিহ জেলার শুকাইন শহরে ইসরায়েলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এর আগে কাফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দুজন এবং লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। এছাড়া শুকাইন গ্রামে আরেকটি হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে এনএনএ জানিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিহ শহরের আল-কুদস চত্বরের কাছে বিমান হামলা চালায় এবং তাইরে জেলার সিদ্দিকিন শহরে যুদ্ধবিমান দিয়ে আক্রমণ করে। ইসরায়েল ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া এবং পরবর্তীতে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্ধিত করা যুদ্ধবিরতি ক্রমাগত লঙ্ঘন করে চলেছে। ইসরায়েলের দাবি, তাদের এই হামলা ইরান-পন্থী লেবাননি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে, তবে নিহতদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ নাগরিক। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননের দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।
হামলা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার হিজবুল্লাহর-মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও হিজবুল্লাহ শুক্রবার লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি ফ্রন্টলাইন শহরে ইসরায়েলি সেনা ও যানবাহনের জমায়েত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে বিনত জবেলের মুসা আব্বাস কমপ্লেক্স এবং হুলা গ্রামের কাছে সেনাদের ওপর কামানের হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া বিয়াদাতে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়।
হিজবুল্লাহ সম্প্রতি ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক লক্ষ্য করে ফাইবার-অপটিক তার নিয়ন্ত্রিত ছোট ড্রোন ব্যবহার করছে। এতে তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া আক্রমণকারী ড্রোনগুলো তেইবেহ শহরে একটি হামভি ট্রাক এবং রিশাফে একটি মেরকাভা ট্যাঙ্কসহ সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এই সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ইরানের ওপর হামলা চালানোর দুই দিন পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট ছুড়তে শুরু করে। এরপর থেকে ইসরায়েল শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে সীমান্তের ডজন ডজন শহর ও গ্রাম দখল করে নিয়েছে।
ওয়াশিংটনে ঘোষিত ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়। বৈরুত থেকে আল জাজিরার ররি চ্যাল্যান্ডস জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি কেবল নামেই টিকে আছে। তিনি বলেন, মূলত এটি একটি কূটনৈতিক কাঠামো মাত্র। বাস্তবতা হলো, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে এটি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের চীনের দূত ফু কং বলেন, সেখানে কোনো প্রকৃত যুদ্ধবিরতি নেই, বরং এটি একটি ‘সামান্য কম মাত্রার আগুন’। মে মাসের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্ব গ্রহণ করে তিনি বলেন, ‘লেবাননের ওপর এই বোমাবর্ষণ বন্ধ করা ইসরায়েলের দায়িত্ব।’ছবি-সংগৃহীত

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!