সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ট্রাম্পকে ছেড়ে দেওয়া হবে না,যুক্তরাষ্ট্রই নিজের ফাঁদে পড়েছে: লারিজানি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

ট্রাম্পকে ছেড়ে দেওয়া হবে না,যুক্তরাষ্ট্রই নিজের ফাঁদে পড়েছে: লারিজানি

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে মূল্য দিতে হবে। খামেনিকে হত্যার পর রোববার এই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার এক্সে করা পোস্টে খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী লারিজানি লিখেছেন- আমাদের নেতা ও আমাদের জনগণের রক্তের প্রতিশোধ আমরা নিরলসভাবে নেব। ট্রাম্পকে এর মূল্য দিতেই হবে এবং তিনি তা দিবেন। তবে তার এই হুমকিকে হুমকিকে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। বলেন, তিনি লারিজানিকে চেনেনই না। তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন- সে কী বলছে, সে কে- এসব সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। আমি একেবারেই পরোয়া করি না। তিনি আরও বলেন, লারিজানি ইতিমধ্যেই পরাজিত হয়েছে।
ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা চলবে এবং তেহরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করেন তিনি। লারিজানি এক পৃথক এক্স পোস্টে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে বলেন, তারা হয় ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে বাধা দিক, নয়তো আমাদের নিজেদেরই তা করতে হবে। তিনি বলেন, শত্রু যখন অঞ্চলজুড়ে থাকা ঘাঁটি থেকে আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা জবাব দিই এবং জবাব দিতে থাকব। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক কমান্ডার লারিজানি আরও দাবি করেন, ইরান কিছু মার্কিন সেনাকেও আটক করেছে। রাষ্ট্রীয় টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান ট্রাম্পকে ছেড়ে দেবে না।
লারিজানি বলেন, আমরা তাকে (ট্রাম্প) ছাড়ব না। সে যা করেছে, তার মূল্য তাকে দিতেই হবে। সে আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে এবং আমাদের এক হাজারের বেশি মানুষকে শহীদ করেছে। এটা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য ছিল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে ভেঙে টুকরো করে দেয়া। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ভেনেজুয়েলার মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল, যেখানে সহিংসতার হুমকির মুখে ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে ফেলার পর অন্তর্র্বতী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। উল্লেখ্য, লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করার প্রচেষ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে তদারকি করছিলেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয় আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তারা পশ্চিম এশিয়ার প্রেক্ষাপট- বিশেষ করে ইরান ইস্যু বোঝেই না। তাদের ধারণা ছিল, ব্যাপারটা ভেনেজুয়েলার মতো হবে। তারা হামলা করবে, নিয়ন্ত্রণ নেবে, তারপর সব শেষ। কিন্তু এখন তারাই ফাঁদে পড়েছে। লারিজানির ভাই সাদেক লারিজানি একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি সর্বোচ্চ নেতার পদে সম্ভাব্য দাবিদারদের একজন বলেও আলোচনায় রয়েছেন।সংগৃহীত ছবি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!