বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানের তেল বিক্রিতে আবারো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

ইরানের তেল বিক্রিতে আবারো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

হরমুজে জাহাজে হামলা: ইরানি তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানি তেল বিক্রির অনুমোদন দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স (জেনারেল লাইসেন্স) মঙ্গলবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে (ট্যাংকার) সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো। মার্কিন এক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওই জলপথে ইরানের কর্মকাণ্ড ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এর পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।

মার্কিন এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাহার হওয়া লাইসেন্সের আওতায় শুরু হওয়া ইরানের তেল সংক্রান্ত লেনদেনগুলো সম্পন্ন করতে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত সময় (উইন্ড-ডাউন পিরিয়ড) দেওয়া হবে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, সর্বশেষ এই উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচকরা এখনো সদিচ্ছার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় তিনটি ট্যাংকার অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিলেও এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হামলার দায়ও এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজেই ইরান হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সদ্য গড়ে ওঠা কূটনৈতিক সমঝোতাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া বৃহত্তর পরিসরে চলমান চুক্তির আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারে। উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখা এবং বিনিময়ে তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসহ কিছু অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে দুই দেশ একটি চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছিল।

ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের বিচারে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু জলপথ হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বে দৈনিক ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বিশাল একটি অংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এই রুটে দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে ইতোমধ্যে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের চাপে থাকা সাধারণ ভোক্তা ও বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

তেল রপ্তানি ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই খাত থেকে আসা বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা দেশটির সরকারি ব্যয় নির্বাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞায় দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করে। নানা বাধা-নিষেধ সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরান মূলত চীনের কাছে তেল রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় নতুন করে তেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে ইরানের আর্থিক সক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সামর্থ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!