সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ, চাপা পড়ে আছে ১০ হাজার মরদেহ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৮:৫২ এএম

গাজায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ, চাপা পড়ে আছে ১০ হাজার মরদেহ

ডেইলি খবর ডেস্ত: গাজায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে ভয়াবহ এক মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা উপত্যকায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন। এর নিচে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় এ ধরনের অভিযান হয়ে উঠতে পারে। জাতিসংঘের হিসাবে, পুরো ধ্বংসস্তূপ সরাতে অন্তত সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে। এ কাজে ব্যয় হতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলার।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স বলেন, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ থেকে তৈরি হওয়া মোট ধ্বংসস্তূপের প্রায় ২০ গুণ।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় কর্মীরা ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে ত্রাণবাহী গাড়ি, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল সহজ হয়েছে।

তবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পরও এ কাজে অগ্রগতি খুব ধীর। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ টনের বেশি পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এটি মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র দেড় শতাংশের মতো।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর নিচে মানুষের মরদেহের পাশাপাশি অবিস্ফোরিত বোমা ও অন্যান্য বিস্ফোরক পড়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপে অ্যাসবেস্টসের মতো ক্ষতিকর পদার্থও রয়েছে।

গাজায় প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশেও বড় ধরনের বাধা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অনেক সরঞ্জামকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয় না। ফলে সেখানে থাকা পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি গাজায় পাঁচটি ধ্বংসস্তূপ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে ধ্বংসস্তূপ থেকে ধাতু ও অন্যান্য উপকরণ আলাদা করে কংক্রিট ভেঙে ছোট টুকরায় পরিণত করা হচ্ছে।

পুনর্ব্যবহার করা এই উপকরণের বড় একটি অংশ সড়ক মেরামত ও গর্ত ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ধ্বংসস্তূপ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ের নিচে দিয়ে মাটি উঁচু করতেও ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে বৃষ্টির পানি ও পয়োনিষ্কাশনের পানি সেখানে না জমে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রকৌশলী নেহাল আবু হাসান বলেন, এসব উপকরণের মান সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় কম। তবে প্রয়োজনীয় বিকল্প না থাকায় পরিস্থিতির কারণে এগুলোই ব্যবহার করতে হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর ফলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তিও ফিরছে। রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে, যানবাহন চলাচল সহজ হচ্ছে এবং ইঁদুর-পোকামাকড়ের উপদ্রব কমছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দোকান ও ছোট ব্যবসা আবার চালু করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

তবে বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ সরানোর বিষয়টি পরিবারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে তাদের স্বজনের মরদেহ, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং জীবনের স্মৃতি চাপা পড়ে থাকতে পারে।

ইউএনডিপির হিসাবে, এখনো ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকতে পারে। মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক রেড ক্রসসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে ইউএনডিপি।

মরদেহ শনাক্ত করার পাশাপাশি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা এবং পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও সনদ দেওয়ার বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএনডিপির কর্মকর্তা জ্যাকো সিলিয়ার্স।

ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা অবিস্ফোরিত বোমা আরেকটি বড় ঝুঁকি। ডব্লিউএফপি ও ইউএনডিপি জাতিসংঘের মাইন অপসারণবিষয়ক সংস্থা, হালো ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তবে সীমিত সক্ষমতার কারণে সব অবিস্ফোরিত বোমা সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেগুলোতে সতর্কতামূলক চিহ্ন দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আংশিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। নিরাপদ মনে করে বাড়িতে ফিরে যাওয়া পরিবারগুলোর ওপর ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাসিন্দাদের ফেরার আগে ভবনের নিরাপত্তা যাচাই করাও পুনরুদ্ধার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।সংগৃহীত ছবি,সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!