ডেইলি খবর ডেস্ক: ইসরাইলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ সদস্যের মধ্যে ৬৭ জন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা শেষে এ তথ্য জানা গেছে। এর ফলে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটের হাতে তুলে দেয়ার পথ তৈরি হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।
বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন আইজেনকটের পক্ষে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।
সমর্থনের এই ব্যবধান স্পষ্ট হলেও সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দেয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন হারজগ। আগামী রোববার তিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের পর কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর পক্ষে এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক আইনপ্রণেতার সমর্থন। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে ৬৭ জনের সমর্থনকে তারা জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখছে।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেলেও আইজেনকটের জন্য সরকার গঠনের পথ এখনো সহজ নয়। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মধ্যে ৪৮ সদস্যের চারটি ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দল এবং ১৯ সদস্যের দুটি আরব-নেতৃত্বাধীন দলের জোট রয়েছে।
এই ছয়টি দলই আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেছে। কিন্তু ইহুদি-নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
গত মাসের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। তবে সাত আসনের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেনি। এর ফলে ভবিষ্যতে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দলটির সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আইজেনকটের সরকার গঠনের পথ আরও সহজ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরাইলের চ্যানেল ১২ নিউজের একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির চেয়ারম্যান আভিগদর লিবারম্যান হারেদি দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের আপত্তি শিথিল করেছেন। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোকে তিনি এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত লিবারম্যানের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মনে করেন, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকারে যোগ দেয়া কিংবা তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার চেয়ে হারেদি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করা ভালো। এ ধরনের সরকার গঠিত হলে আইজেনকট ও লিবারম্যানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগাভাগির একটি সমঝোতা হতে পারে। পাশাপাশি হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
ইসরাইলের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে নতুন নেসেটের স্পিকার নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন পার্লামেন্টের সদস্যদের শপথ নেয়ার পরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচনের কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে লিকুদ পার্টির বর্তমান স্পিকারকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।
ইসরাইলের পার্লামেন্টের কার্যক্রম পরিচালনায় স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার ডেপুটিদের সঙ্গে মিলে তিনি আইন প্রণয়নের কর্মসূচি ও পার্লামেন্টের আলোচ্যসূচি নিয়ন্ত্রণ করেন।সংবাদ বিশ্লেষণ
বৃহস্পতিবার আরব দল রা’আম আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়াশার, জয়েন্ট (আরব) লিস্ট, ইসরাইল বেইতেনু এবং দ্য ডেমোক্র্যাটসের সঙ্গে স্পিকার পদে আগাম ভোট আয়োজনের দাবিতে যোগ দিয়েছে।
বর্তমান স্পিকার আমির ওহানা জানিয়েছেন, অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতা আনুষ্ঠানিকভাবে তার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য আবেদন করলে এ বিষয়ে আলোচনা আয়োজন করা হবে। ফলে নতুন সরকার গঠনের পাশাপাশি পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দর-কষাকষি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :