ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে কট্টরপন্থী সহযোগী স্টিফেন মিলারকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এ ঘোষণা দেন তিনি। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন মিলার। তিনি সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। খবর রয়টার্সের।
অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত ৪১ বছর বয়সী মিলার। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর একাধিক তদন্তের চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিলারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প মিলারকে তার ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন’ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিলারের নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বিশ্বস্ত সহযোগীদের পুরস্কৃত করছেন তিনি।
মিলারের নিয়োগকে আরও সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকতে পারে।
ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদ- দুই সময়েই তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন মিলার। ২০২৫ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে তিনি ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক।
ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী মিলার। প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন তিনি। এ লক্ষ্য পূরণে দেশজুড়ে অভিযান চালায় অভিবাসন কর্মকর্তারা। এতে অপরাধের রেকর্ড নেই- এমন ব্যক্তিদের পাশাপাশি কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা মানুষও গ্রেপ্তার হন।
তবে এই অভিযানের প্রতি জনসমর্থন কম। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এ অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিরোধিতা করেছেন ৫৪ শতাংশ।
ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন, মিলারের অভিবাসন নীতি নিয়ে তদন্তের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এছাড়া সরকারি প্রশাসন পুনর্গঠন, হাজারো সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধেও ভূমিকা ছিল মিলারের।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের সমর্থক মিলার। ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারের সন্দেহে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলারও সমর্থন করেছেন মিলার। তেহরানের ওপর নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষেও কথা বলেছেন তিনি। তবে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর এ বিষয়ে তার অবস্থান বদলেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফ মার্ক শর্টের মতে, মিলার ট্রাম্পের প্রতি অত্যন্ত অনুগত। অভিবাসন নীতি ও কংগ্রেসের তদন্তের মতো বিষয়ে তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত থাকবেন। তার নিয়োগে দ্বিদলীয় সমঝোতার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন শর্ট।
চিফ অব স্টাফ হিসেবে সুসি ওয়াইলসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) রাতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াইলস ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন।
৬৯ বছর বয়সী ওয়াইলস হোয়াইট হাউসের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ ছিলেন। ট্রাম্পের আগের সহযোগীদের তুলনায় তিনি প্রশাসনের কার্যক্রমে বেশি শৃঙ্খলা বজায় রেখেছিলেন বলে মনে করা হয়।
চিফ অব স্টাফ সাধারণত প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠতম প্রশাসনিক সহযোগী। হোয়াইট হাউসের কর্মীদের পরিচালনা, প্রেসিডেন্টের সময়সূচি নির্ধারণ এবং সরকারি বিভাগ ও আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব তার।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চারজন চিফ অব স্টাফ দায়িত্ব পালন করেন। এবার মিলারের নিয়োগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রশাসনে নতুন করে ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :