ডেইলি খবর ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার (১৯ আগস্ট) গাজা সিটির পৌর পুলিশ সদর দপ্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা এই হামলায় এবং গাজার আরও দক্ষিণে চালানো আরেকটি হামলায় হামাসের একজন কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
দীর্ঘমেয়াদি গাজা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রচেষ্টার পরও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, গাজা সিটিতে এই হামলার পর একজন নারী ও এক শিশুসহ ৯ জনের মরদেহ এবং অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তিকে সেখানে আনা হয়েছে। হামাসের অধীনে উদ্ধারকারী দল হিসেবে পরিচালিত ভূখণ্ডটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পুলিশ সদর দপ্তরে চালানো এই হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের একজন কমান্ডার, যিনি ওই ভূখণ্ডে দায়িত্ব পালনরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তারা আরও যোগ করে, হামলা চালানোর আগে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমানোর জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ব্যবহার এবং আকাশপথ থেকে নজরদারিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও জানায়, তারা মধ্য গাজা উপত্যকার নুসেইরাত এলাকায় হামাসের সামরিক শাখার একজন কমান্ডারকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এই হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতির সমস্ত আহ্বানের প্রতি ইসরায়েলের চরম উপেক্ষা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছরের অক্টোবরে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের `বোর্ড অব পিস` দখলদার বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহি না করায় এই সহিংস ঘটনা ঘটছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার গত সোমবার জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর হামাসকে নিরস্ত্র করার এবং গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ এক মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে। ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপ হামাস মেনে নেওয়ার দুই সপ্তাহ পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই রূপরেখাকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থি আন্দোলন হামাস ‘প্রকৃতপক্ষে নিরস্ত্র’ না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার না করার অঙ্গীকার করেছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন যে, গাজা সিটির বন্দরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বেশ কয়েকজন হামাস কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা বলেছিল।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :