ডেইলি খবর ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে ভূমিকম্প নয়, ভূমিধস দায়ী বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বন্যার পর প্রাথমিকভাবে নেপালি কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, ভূমিকম্পের কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছে। তবে পরবর্তী বিশ্লেষণে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পন তরঙ্গের অতিরিক্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের পরিবর্তে ভূমিধস থেকেই ওই ভূকম্পন শক্তির সৃষ্টি হয়েছিল।
নেপালের আবহাওয়া ও জলবিদ্যা বিভাগের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, পাহাড়ের একটি বিশাল বরফখণ্ড ধসে পড়ার পর এর সঙ্গে পাথর ও অন্যান্য পলিমাটিও নিচের দিকে নেমে গিয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে থাকতে পারে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়লেও এই নির্দিষ্ট ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আরও কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কোনো হিমবাহ-হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে গিয়েছিল কি না, নদীর প্রবাহ কোথাও আটকে গিয়েছিল কি না এবং সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় কতটা বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক এ বন্যায় এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে পৌঁছেছে। নদীর পানির আকস্মিক স্রোতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের তথ্য, পাহাড়ধস, হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদের পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :