সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

এবার ‘আগুনের বৃষ্টির’ হুমকি ইরানের, দীর্ঘ যুদ্ধে অবস্থান শক্তের চেষ্টায় ইসরায়েল

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

এবার ‘আগুনের বৃষ্টির’ হুমকি ইরানের, দীর্ঘ যুদ্ধে অবস্থান শক্তের চেষ্টায় ইসরায়েল

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (বাঁ থেকে), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোলাজ
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার তৎপরতার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের স্পিকারের ধারণাটি হয়তোবা সঠিক। তিনি বলেছিলেন,‘শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে, গোপনে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে।’
স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ওই মন্তব্যের কাছাকাছি সময়ে মধ্যেপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। এমন অবস্থায় গালিবাফ তাঁর বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন সৈন্যদের স্থলপথে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে। তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে। 
সিএনএনের প্রধান কূটনৈতিক প্রতিবেদক ম্যাথিউ চ্যান্সের মতে, মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র থাকা সত্ত্বেও একটি স্থল অভিযান দ্রুত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি আছে। জ্বালানিসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যুদ্ধের ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের লোকসান গুনেছে। তারা এখন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সঙ্গত কারণেই উদ্বিগ্ন।
গালিবাফের ভাষায়, ‘ইরানে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে তারা হামলা আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক সহযোগীদের কঠিন শাস্তি দেবে।’ আঞ্চলিক দেশগুলো ভালোভাবেই জানে, ইরানের এমন হুমকির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে জ্বালানি স্থাপনাগুলো। 
ম্যাথিউ চ্যান্স বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় আরেক জলপথ বাব এল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতিও আরও জটিল আকার ধারণ করছে। ওয়াশিংটন যুদ্ধে দ্রুত জয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সে আশা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্প যখন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার কথা বলছেন, তখন মিত্র দেশ ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, অঞ্চলটিতে নিজেরা ক্রমে বিচ্ছিন্ন হওয়া স্বত্ত্বেও তেল আবিব বেশ কয়েকটি দেশকে লক্ষ্য করে তাদের সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, ইসরায়েল তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৭১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট তৈরি করেছে। এটি বিভিন্ন ফ্রন্টে একাধিক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যর প্রতিফলন।
এলমাসরি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বড় সামরিক সহায়তা দেয়। যুদ্ধের সময় এই অংকটা আরও বাড়ানো হয়। সবশেষ বাজেট ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইসরায়েল সম্ভবত যুদ্ধের মাঝামাঝি অথবা শুরুর কাছাকাছি অবস্থানে আছে।
‘অর্থ্যাৎ, সিরিয়া, লেবানন থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইরান পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ বা ধারাবাহিক কয়েকটি যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে ইসরায়েল। যাতে তারা তাদের গ্রেটার ইসরায়েল বা বৃহত্তর ইসরায়েলের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।’- বলেন মোহাম্মদ এলমাসরি। সুত্র-সিএনএন ও আলজাজিরা

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!