ডেইলি খবর ডেস্ক: লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কর্মকর্তাদের দেওয়া নতুন তথ্যানুযায়ী, ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে কফি উৎপাদনকারী রিসারালদা অঞ্চলে ৪০ জন, ভাইয়ে দেল কাউকা বিভাগে ২৭ জন এবং ম্যানিজালেস শহরে আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ভূতাত্ত্বিকদের রেকর্ড অনুযায়ী, ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের ১০০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালের এই ভূমিকম্পের কম্পন ইকুয়েডর, পানামা এবং ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়। এরমধ্যে ভেনেজুয়েলা জুন মাসের শেষের দিকে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের শিকার হয়েছিল।
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায় আতঙ্কে লোকজনকে ভবন থেকে বের করে আনতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপি-র সাংবাদিকরা। সংবাদের ফুটেজে পশ্চিম কলম্বিয়া জুড়ে ধসে পড়া ভবন দেখা গেছে, তবে কর্মকর্তারা সুনামি সংক্রান্ত কোনো আশঙ্কার কথা জানাননি।
কলম্বিয়ার পেরেইরা শহরের মেয়র মাউরিসিও সালাজার একটি রেডিও স্টেশনকে জানিয়েছেন, শুধু পেরেইরাতেই অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। দেশটির চোকো প্রদেশের গভর্নর এক্স-এ লিখেছেন, প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদো-তে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানকার প্রকাশিত ভিডিওতে ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। চোকো প্রদেশটি ছিল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই এলাকা থেকে নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালির মেয়র আলেজান্দ্রো এদের জানান, অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং অনেক মানুষ আটকা পড়েছে। ড্রোন দিয়ে এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ করা হচ্ছে। কলম্বিয়ার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ম্যানিজালেসের মতো শহরগুলোতেও ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ছবি দেখা গেছে।
কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল এহে কাফেতেরোর ৬৬ বছর বয়সী বাসিন্দা মার্থা এস্ট্রাদা এএফপিকে বলেন ‘বিদ্যুৎ বা মোবাইল নেটওয়ার্ক কিচ্ছু নেই। কম্পনটা খুব তীব্র, সত্যিই মারাত্মক ছিল। আমার ঘরের জিনিসপত্র পড়ে ভেঙে গেছে।’ বোগোতার ২৯ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভ্যালেরিয়া পোলো বলেন, ‘ভূমিকম্পটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল।’
কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিম কলম্বিয়ার ছয়টি ছোট বিমানবন্দর তাদের ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে। বোগোতার মেয়র কার্লোস গালান `ব্লু রেডিও`-কে বলেছেন, রাজধানীতে ক্ষয়ক্ষতি মূলত ঘরবাড়ি ও ভবনের সামনের অংশে ফাটল ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলফোর্ডো দে লা এস্প্রিয়েল্লা ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে যাবেন।
এএফপি সাংবাদিকরা দেখেছেন, ভূমিকম্পের সময় বোগোতায় জরুরি সাইরেন বেজে উঠতেই নাগরিকরা নাইটওয়্যার পরা অবস্থাতেই আতঙ্কে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি জোড়া ভূমিকম্পে ছয় হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।ছবি: সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :