শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, দাবি ইরানের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, দাবি ইরানের

ডেইলি খবর ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার ‘চোখ অন্ধ করে’ দেওয়া হয়েছে হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা দিয়েছে, তারা অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪ ’-এর ১৭ তম ধাপ সম্পন্ন করেছে। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয় তারা। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক আগ্রাসনের জবাবে শুরু হওয়া এই অভিযানের পঞ্চম দিন ছিল সেদিন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাতটিরও বেশি অত্যাধুনিক রাডার সফলভাবে ধ্বংস করার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার জায়নবাদী শাসনের চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের টিএইচএএডি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করা হয়েছে। ইসরায়েলি শাসনকে প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে রক্ষা করতে এই ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল। তবুও ওই শাসনের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং তাদের ব্যস্ততম বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আঘাত হানা হয়েছে।
অভিযানের সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে আইআরজিসি জানায়, গত ১০০ ঘণ্টা ধরে দখলকৃত ভূখণ্ডজুড়ে সাইরেনের অবিরাম শব্দ এবং অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে বাধ্য হওয়া এই সাফল্যের সাক্ষ্য বহন করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি প্রমাণ করে ‘সন্ত্রাসী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানি প্রক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত ছন্দ।’ তারা আরও সতর্ক করে জানায়, ‘আগামী দিনগুলোতে হামলা আরও তীব্র ও বিস্তৃত হবে।’
এ পর্যন্ত অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে আইআরজিসি অঞ্চলজুড়ে সংবেদনশীল ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাঠিয়েছে। এই লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল তেল আবিব শহর ও পবিত্র দখলকৃত নগরী আল-কুদস, পাশাপাশি কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা।ইরানের আক্রমণে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারইরানের আক্রমণে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার
প্রতিশোধমূলক হামলার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্যবস্তু করা। বুধবার আইআরজিসি আরও ঘোষণা দেয়, তারা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মার্কিন ডাটা সেন্টারের বিরুদ্ধে একটি “গুরুত্বপূর্ণ আঘাত” হেনেছে।
তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজন ডাটা সেন্টারের নাম উল্লেখ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুর সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতায় এসব কেন্দ্রের ভূমিকা চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। অ্যামাজনের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, এই কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বাহরাইনে অ্যামাজনের আঞ্চলিক কার্যালয় ২০১৯ সালে চালু হয়। এটি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে অ্যামাজনের উন্নত ক্লাউড সেবার প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।সংগৃহীত ছবি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!