ডেইলি খবর আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে তাদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাত। যুদ্ধ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে উভয়েই সেই উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবারের বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় হবে ইরান যুদ্ধ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে ওয়াশিংটন বলছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ দিতে চায়।
চলতি মাসের শুরুতে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলেও, সাম্প্রতিক এই লড়াইয়ে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেয়নি।
ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর এটি হবে দুই নেতার অষ্টম বৈঠক এবং ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম মুখোমুখি আলোচনা।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, `আলোচনার সূচিতে থাকা সব বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলব। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইরান। একই সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য হবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমাদের চারপাশে শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা।`
তিনি আরও বলেন, `প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এমন জটিল সময়ে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা; দুটো নিয়েই এগোতে হয়।`
এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় নিজের ইসরায়েলি মিত্রের সমালোচনা করেছিলেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘খুবই কঠিন একজন ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করেন। তবে নেতানিয়াহু এসব ঘটনাকে ‘কৌশলগত মতপার্থক্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, যুদ্ধের মূল লক্ষ্য নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
মঙ্গলবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও মাঠপর্যায়ে সেই চুক্তি কার্যকর করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া গাজা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি অঞ্চলটির পুনর্গঠন শুরু করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় তিন বছর পরও গাজার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসরায়েল এখনও নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য সশস্ত্র যোদ্ধারা।
`সম্পর্কে কোনো ভাঙন নেই`জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়োনাতান ফ্রিম্যানের মতে, এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন ধারণা দূর করা।
তিনি এএফপিকে বলেন,‘আমার মনে হয়, প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বকে, ইরানকে, এমনকি লেবাননসহ অন্য দেশগুলোকেও দেখানো যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো ভাঙন বা বড় ধরনের মতবিরোধ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধের চেয়ে মিলই অনেক বেশি।’
ফ্রিম্যানের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পার্থক্য মূলত যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে-যেমন সময়সূচি, হামলার তীব্রতা এবং তাৎক্ষণিক লক্ষ্য। কিন্তু যুদ্ধের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের অবস্থান প্রায় একই।
তার ধারণা, ট্রাম্পের মূল মনোযোগ থাকবে দুটি আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের ওপর ইরান এবং আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণ। তুলনামূলকভাবে গাজাকে তিনি কম অগ্রাধিকার দেন।
আব্রাহাম চুক্তি হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একাধিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি। এর মাধ্যমে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে মরক্কোও এই উদ্যোগে যোগ দেয়। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন আর কয়েক মাস বাকি। তিনি আবারও ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, তিনি জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে রয়েছেন। কারণ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে তার সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। সেই হামলার পরই গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়।ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :