বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

একাধিক ধাক্কার পরও কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

একাধিক ধাক্কার পরও কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

ডেইলি খবর ডেস্ক: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। তবে একই সঙ্গে আদালত সাম্প্রতিক একাধিক রায়ে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে, যা ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টদের জন্যও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) অস্থায়ী ভিসাধারী ও অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে চাওয়া ট্রাম্পের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পাঁচ বিচারপতি মত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসির।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, এটি দেশের জন্য দুঃখজনক। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসকে এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার কারণে এমন আইন পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মামলায় হারলেও চলতি মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ ট্রাম্পের পক্ষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে।

সম্প্রতি আদালত রায় দিয়েছে, নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে প্রেসিডেন্ট স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সদস্যদের অপসারণ করতে পারবেন। এর ফলে শ্রম, পরিবেশ, নির্বাচন, যোগাযোগ ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার ওপর হোয়াইট হাউসের প্রভাব আরও বাড়বে।

এছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ও ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার ঝুঁকিও অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে আদালতের আগের রায়গুলো। অভিবাসন ইস্যুতেও ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্ট থেকে বড় ধরনের সমর্থন পেয়েছে।

গত সপ্তাহে আদালত হাইতি ও সিরিয়ার হাজারো অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষার সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আশ্রয় আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে উপস্থিত থাকতে হবে।

তবে সব ক্ষেত্রে ট্রাম্প সফল হননি। ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তার প্রশাসনের আরোপিত ব্যাপক আমদানি শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, এ ধরনের বড় অর্থনৈতিক নীতির জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া শিকাগোতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আপত্তি উপেক্ষা করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের পরিকল্পনাও আটকে দেয় আদালত।

নির্বাচনি অর্থায়ন সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের পেছনে ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা শিথিল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টির হাতে বিপুল অর্থ থাকায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটি এর সুবিধা পেতে পারে।

এছাড়া ভোটাধিকার আইন সম্পর্কিত এক রায়ে আদালত সংখ্যালঘু ভোটারদের সুবিধার্থে নির্ধারিত কিছু নির্বাচনি এলাকা পুনর্বিন্যাসের সুযোগও তৈরি করেছে, যা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে পরাজয় ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হলেও সামগ্রিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়গুলো প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গুঞ্জন রয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ রক্ষণশীল বিচারপতি শিগগিরই অবসরে যেতে পারেন। এমনটি হলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প আরও একজন বিচারপতি নিয়োগের সুযোগ পেতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় তার প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফাইল ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!