বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপে ‘নো কমেন্ট’শুল্কারোপে ‘১০০% হ্যাঁ’ ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:২৩ এএম

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপে ‘নো কমেন্ট’শুল্কারোপে ‘১০০% হ্যাঁ’ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির বিরোধিতা করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি ‘১০০ শতাংশ’ বাস্তবায়ন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিপরীতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, তারা নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থাকবে। সোমবার (১৯জানুয়ারি) এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে তার অবস্থানের বিরোধিতা করলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। তার কথায়, ‘আমি এটি করবো, ১০০ শতাংশ করবো।’
ট্রাম্প জানান, আগামী ১ ফেব্রæয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা ১ জুন থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশ হবে। ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক চলবে। একই শুল্কনীতি ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে ইউরোপ?
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এত আগ্রহ কেন?
একজোট ইউরোপ-গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ইউরোপীয় মিত্ররা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, হুমকি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা দাবি করা যায় না। কিছু লাল রেখা আছে, যা অতিক্রম করা যায় না।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারও বলেছেন,গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি। এ বিষয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোনো মন্তব্য নয়।’ এদিকে ডেনমার্ক সতর্ক করেছে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটোর জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে জোটটি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতীকী উপস্থিতি হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, ‘আমাদের লড়াইয়ে যাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই, কিন্তু আমরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবো। বাণিজ্যিক হুমকি সঠিক পথ নয় সার্বভৌমত্ব বাণিজ্যের বিষয় হতে পারে না।’
এপরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে করণীয় নির্ধারণে আগামী বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এর মধ্যেই ট্রাম্প ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের মধ্যে বার্তা বিনিময়ের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জন্য নরওয়েকে দায়ী করেন। জবাবে স্টোর স্পষ্ট করেন, নোবেল পুরস্কার একটি স্বাধীন কমিটি দিয়ে থাকে, নরওয়ে সরকার নয়। তিনি আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ এবং নরওয়ে এ বিষয়ে ডেনমার্কের অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন করে।
এদিকে নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে একাধিক বিমান পাঠানো হয়েছে। তবে এটি পূর্বপরিকল্পিত রুটিন কার্যক্রমের অংশ বলে জানিয়ে নোরাড বলেছে, বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই করা হয়েছে। অতীতেও ২০২২, ২০২৩ ও গত বছর একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!