শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা করলেন ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১১:১০ এএম

এবার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা করলেন ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান

ডেইলি খবর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল নেতানিয়াহুকে। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। পক্ষান্তরে নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নিজের ওপর থেকে সরিয়ে অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন রোনেন বার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি।

এতে আরও বলা হয়, হামলার সময় ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বার। বুধবার তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিন মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলাটি দায়ের করেন। নেতানিয়াহুর অভিযোগ, বার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য গোপন করেছিলেন এবং সেনাদের সতর্ক করতে কিংবা নোভা সংগীত উৎসবে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রোনেন বার। তার দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার দায় এড়াতেই নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।

ওই হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে হামাস। এর পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ৬ই অক্টোবর গভীর রাতে হামাসের অস্বাভাবিক তৎপরতা সম্পর্কে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে শুরু করেন শিন বেতের কর্মকর্তারা। রাত পেরিয়ে ৭ই অক্টোবর ভোর ৩টা ৩ মিনিটে একটি সতর্কবার্তা দেয়া হয়। ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটে নেতানিয়াহুর সামরিক সচিবালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। এরপর সকাল ৬টার কিছু পর রোনেন বারের চিফ অব স্টাফ তার সামরিক সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন।

ওই রাতে ইসরাইলের সেনাপ্রধান কিংবা সামরিক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রোনেন বার। নেতানিয়াহু যে দাবি করেছেন, তার সঙ্গে বারের বক্তব্যের এই জায়গায় মতবিরোধ রয়েছে। রোনেন বার স্বীকার করেছেন, হামলার ব্যাপকতা ও সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা করতে এবং যথাযথ সতর্কবার্তা দিতে শিন বেত ব্যর্থ হয়েছিল। এই ব্যর্থতার দায়ও তিনি স্বীকার করেছেন। এসব ব্যর্থতার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতে হয়। তবে বারের দাবি, হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অস্থিতিশীলতা দেশটির শত্রুদের আরও সাহসী করে তুলতে পারে।

রোনেন বারের ভাষ্য অনুযায়ী, একই বছরের জুলাইয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা নেতানিয়াহুকে জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষে এমন হামলার পূর্বাভাস দেয়া কঠিন হতে পারে। মামলার নথিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শুরুর দিকে হামাসের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়েও একাধিক সতর্কবার্তার উল্লেখ রয়েছে। বারের অভিযোগ, হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব নেতানিয়াহু বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন অথবা সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেছেন। গাজায় তিনি ‘যেকোনো মূল্যে শান্ত’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন বার।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তার অর্থ হামাসের সামরিক শাখার হাতে পৌঁছানোর আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও নেতানিয়াহু গাজায় কাতারের অর্থ প্রবেশের অনুমতি অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। তার বক্তব্য, জরুরি যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষিত ফোন লাইনের মাধ্যমে বার চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। জবাবে বার বলেছেন, নেতানিয়াহু কখনো তাকে নিজের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দেননি। বারের বক্তব্যের বিরোধিতা করে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেছেন, তিনি প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন।

২০২৫ সালের মার্চে নেতানিয়াহুর সরকার আস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করে বারকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় নেতানিয়াহুর সহযোগীরা কাতারের স্বার্থ এগিয়ে নিতে কাজ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত করছিল শিন বেত। তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর এ সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে। পরবর্তী সময়ে ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট বারের বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে রায় দেন। এরপর জুনে পদত্যাগ করেন বার। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!