মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও মন্থর প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি-এএফপির বিশ্লেষণ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও মন্থর প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি-এএফপির বিশ্লেষণ

ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ‍‍`স্ট্যাগফ্লেশন‍‍` (উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং মন্থর প্রবৃদ্ধির একটি উদ্বেগজনক মিশ্রণ) দেখা দিতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। মূলত তেল ও গ্যাসের আকাশচুম্বী দামের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
নতুন কোনো ‍‍`অয়েল শক‍‍` কি আসছে?
এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সামুদ্রিক তেল পরিবাহিত হয়। সোমবার (২ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এটি সাময়িকভাবে ৮০ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ সিলভাইন বারসিঙ্গার বলেন, এই যুদ্ধ ১৯৭৩ এবং ১৯৭৯ সালের তেলের ধাক্কা এবং ২০২২ সালের গ্যাস সংকটের পর একটি তৃতীয় ‍‍`অয়েল শক‍‍` তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে। সোমবার ইউরোপের বেঞ্চমার্ক গ্যাসের দামও ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, তেলের দাম ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যা ২০০৮ সালের ১৪০ ডলারের রেকর্ডের তুলনায় কিছুটা সহনীয়।
বিশ্ব বাণিজ্যে এর প্রভাব কী?
আইএনজি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংঘাত বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়ে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা এমনিতেই চাপে রয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
কোফেইসের রাজনৈতিক ঝুঁকি গবেষণা প্রধান রুবেন নিজার্ড বলেন, এই সংকট সামুদ্রিক মালবাহী খরচ বাড়িয়ে দিয়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। তাঁর মতে, এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে ‍‍`স্ট্যাগফ্লেশন‍‍`-এর পথ প্রশস্ত করছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব
ন্যাটিক্সিস ব্যাংকের মতে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা বাজার, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। তারা আরও জানিয়েছে, এই যুদ্ধে চীন বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফ্রেঞ্চ নেভির সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর পরিচালক সিরিল পইরিয়ার-কুটানসাইসিএ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, চীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা তেলের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। তিনি এএফপি-কে বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, বিশ্বের এই কারখানাটি (চীন) সচল রাখার জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকবে কি না।’ তবে ইউরোপের ওপর এর প্রভাব ২০২২ সালের গ্যাস সংকটের চেয়ে কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকি কী?
যুদ্ধের তীব্রতা এবং স্থায়িত্বই এর প্রভাব নির্ধারণ করবে। আইএনজি ব্যাংকের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সমস্যা বিশ্ব বাণিজ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেবে।
কোফাস-এর নিজার্ড অনুমান করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১৫ ডলার করে বৃদ্ধি পেলে তা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি থেকে ০.২ শতাংশ কমিয়ে দেবে এবং মুদ্রাস্ফীতিতে প্রায় অর্ধেক পয়েন্ট যোগ করবে। ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই প্রভাবগুলো মোটেও সামান্য নয়।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!