বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বোমাবর্ষণ চললে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি ঠেকাবে ইরান

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বোমাবর্ষণ চললে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি ঠেকাবে ইরান

ডেইলি খবর ডেস্ক: এবার ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। এদিকে, ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের পাল্টা আক্রমণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আভাস দিলে দাম কিছুটা কমলেও আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নতুন করে হুমকি ও সহিংসতার মুখে তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুয়াইস শিল্প কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলার পর সতর্কতা হিসেবে সেখানকার বিশাল তেল শোধনাগারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি ঘোষণা করেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী হয় সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ হবে, নয়তো এটি যুদ্ধবাজদের জন্য পরাজয় ও যন্ত্রণার পথ হবে।’
কাতারের এলএনজি রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় ইউরোপে জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। কাতার জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনে আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আজকের দিনটি হবে ইরানের ভেতরে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী হামলার দিন।’
বিপর্যয়কর পরিণতি-বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চল থেকে। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সৌদি আরামকো’র সিইও আমিন এইচ নাসের বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় বিশ্ব বাজারে এর বিপর্যয়কর পরিণতি হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিশর জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশ বাড়িয়েছে এবং পাকিস্তান বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নৌ-নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্সও এই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে শত্রু পক্ষ বা তাদের অংশীদারদের কাছে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেবে না। যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা আমরাই নির্ধারণ করব।
আলী লারিজানি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইরান আপনার ফাঁকা হুমকিতে ভয় পায় না।’মৃত্যু, আগুন ও উন্মাদনা-এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে, তবে তারা যদি আবারও শুরু করে তবে আরও কঠোর আঘাত করা হবে।’ পরবর্তীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেন, ইরান যদি তেল রপ্তানিতে বাধা দেয় তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এমনভাবে বোমাবর্ষণ করবে যে ‘একটি জাতি হিসেবে ইরানের পুনর্গঠন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ ট্রাম্প লিখেন, ‘তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন ও উন্মাদনা রাজত্ব করবে—তবে আমি আশা ও প্রার্থনা করি যেন এমনটি না ঘটে’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা তাদের হাড় ভেঙে দিচ্ছি এবং আমরা এখনো কাজ শেষ করিনি।’সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!