ডেইলি খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আঘাত হানল কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পানির অবকাঠামোয়। কুয়েতে বিদ্যুৎ ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টে এই হামলায় একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থাপনাটি। এতে শুধু নিরাপত্তা নয়, পুরো অঞ্চলের পানি ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, কুয়েতে একটি বিদ্যুৎ ও সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টে ইরানের হামলায় একজন ভারতীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং স্থাপনাটির একটি ভবনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৩০ মার্চ) কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কুয়েত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টের সার্ভিস ভবনে হামলা চালানো হয়। এতে একজন ভারতীয় শ্রমিক নিহত হন এবং ভবনটির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়।’
হামলার পরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে প্রযুক্তিগত ও জরুরি সেবা প্রদানকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ইরানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কুয়েতের মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলায় প্লান্টটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েত সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মালিক ট্রেইনা জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসের বেশি সময় ধরে কুয়েত বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশসীমায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন একটি সামরিক শিবিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সেখানে ১০ জন সেনা সদস্য আহত হন।’তিনি আরও জানান, আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ইরান জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা এবং অন্তত ২১৬ শিশু রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে।
এর জবাবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা আঞ্চলিক দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের এই হামলায়ও প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমেই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখবেন, অর্থাৎ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। অন্যদিকে ইরান বলেছে, তাদের স্থাপনায় হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।চলমান এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের পানি অবকাঠামোর ঝুঁকিও সামনে এনে দিয়েছে। কারণ, এই অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে পানি-সংকটাপন্ন এলাকাগুলোর একটি।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :