শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ফের ভয়াবহ হামলা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ১২:১০ পিএম

কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ফের ভয়াবহ হামলা

ডেইলি খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের কাতারের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। কাতার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলার ফলে গ্যাসক্ষেত্রটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ মার্চ) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। তবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে কাতারএনার্জি আরেকটি বিবৃতি প্রদান করে।
সেখানে জানানো হয়, রাস লাফান ছাড়াও আরও বেশ কিছু এলএনজি স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও পুরো অঞ্চলে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সম্প্রতি ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরান পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল। ইরানের এই হুমকির তালিকায় কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও রাস লাফান রিফাইনারি ছাড়াও সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্রের নাম ছিল।
ইরানের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতার ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। কাতার এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কাতার তাদের দেশে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং তাদের কর্মীদেরসহ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাতার ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলেও এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই ঘটনার পর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। তিনি যেকোনো মূল্যে বেসামরিক অবকাঠামো এবং বিশেষ করে জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দোহা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে গত ২ মার্চ মেসাইদ শিল্প নগরীর একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার পর কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করেছিল।
বর্তমান এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে জার্মানি, জাপান, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলো যারা এলএনজি আমদানির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে গ্লোবাল সাউথের দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো।
কাতারে হামলার পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে আমিরাতের হাবশান গ্যাস কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে। এমন এক সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের রিয়াদে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, ওই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় এখন হবে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান হুমকি ও হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!