ডেইলি খবর ডেস্ক: ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর বোর্দোর মাত্র ১৫ কিলোমিটার (প্রায় ৯ মাইল) দূরে ভয়াবহ দাবানল পৌঁছে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন শহরটির মেয়র থমাস কাজেনাভ।
মেয়র বলেছেন, যদি আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তাহলে তাদের আশ্রয়ের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দাবানলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গিরন্দ অঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, ফ্রান্স বর্তমানে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন এক দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে। তার ভাষায়, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল। খবর বিবিসির।
বর্তমানে ফ্রান্সে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী স্পেনে দাবানলের কারণে এক লাখেরও বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে নতুন করে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন করে তুলবে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, লঁদ অঞ্চলের একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলেও পার্শ্ববর্তী গিরন্দে এখনও আগুন নেভানোর লড়াই চলছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সোমবার (২৭ জুলাই) পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তাপমাত্রা আবার বাড়বে এবং বাতাসও প্রবল থাকবে, তাই এখনই স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ নেই।
এর আগে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ বলেন, আগুন এখন নিজস্ব গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে এর গতিপথ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বোর্দোর দক্ষিণে অবস্থিত সেস্তা শহরের মেয়র জেরোম স্টেফ বলেন, এটি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল হতে যাচ্ছে।
জেরোম স্টেফ জানান, মাত্র দুই দিন আগে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর তার শহরের ১৭ হাজার বাসিন্দাকে রাতের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ৪২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে এবং ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
তার ভাষায়, আমাদের শহরের পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ।
যদিও আগুনের বিস্তার কিছুটা ধীর হয়েছে, তবু তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি কেবল ছোট একটি সাফল্য। কারণ বাতাসে উড়ে যাওয়া জ্বলন্ত অঙ্গার বা হঠাৎ বাতাসের দিক পরিবর্তন আবারও পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, দেশটি অভূতপূর্ব দাবানল মৌসুম পার করছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং ১৩ হাজার ৫৬৬টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ১০টির মধ্যে ৯টি দাবানলই মানুষের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসতর্কভাবে ফেলে দেওয়া সিগারেট, বারবিকিউ বা নিরাপত্তাবিধি না মেনে কাজ করার কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
তবে সব দাবানল দুর্ঘটনাজনিত নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, কিছু আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে ফ্রান্সের ভ্যার, লঁদ এবং কর্সিকা দ্বীপের ওত-কর্স অঞ্চলসহ আরও কয়েকটি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে স্পেনে মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে জাতীয় জরুরি অবস্থা পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেখানে দাবানলে ২৭ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :