শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি ডেনমার্কের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি ডেনমার্কের

ডেইলি খবর ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

তবে ট্রাম্প যে চুক্তিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও বিশেষ বলে বর্ণনা করেছেন, এর পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিন পক্ষের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। একই সঙ্গে তিনি গ্রিনল্যান্ডের উপযুক্ত এলাকায় বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার কথা জানিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল এবং ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো মিত্র। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে সেখানে পিটুফিক মহাকাশ ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে।ট্রাম্পের ঘোষণার পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের সরকারপ্রধান ইয়েনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন আলাদা বিবৃতি দেন।

ফ্রেডেরিকসেন চুক্তিটিকে তিন পক্ষের জন্য দারুণ একটি চুক্তি বলে উল্লেখ করলেও স্পষ্ট করেন, এতে ডেনমার্কের রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে।।নিলসেন বলেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা জোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শক্তিশালী করবে।

তাদের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার ট্রাম্পের আগের দাবির চেয়ে অনেক সীমিত। বরং ন্যাটোর আওতায় দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিরাপত্তা ও সামরিক অধিকারগুলো আরও স্পষ্ট বা শক্তিশালী করার বিষয় এতে থাকতে পারে।

চুক্তিটি কার্যকর করতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলেও দুই পক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণকে তিনি অত্যাবশ্যক বলেও উল্লেখ করেছেন।

২০১৯ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে তার সহযোগীদের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেছিলেন। সে সময় তিনি বিষয়টিকে বড় ধরনের আবাসন চুক্তির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তবে ডেনমার্ক বরাবরই বলে আসছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে গত বছর পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগও বেড়ে যায়।

চলতি বছরের শুরুতে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সময়ও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউরোপীয় দেশগুলো তার অবস্থানের বিরোধিতা করলে তিনি ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড। আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে দ্বীপটির গুরুত্বও বাড়ছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অবস্থানের কারণে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবও তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপেও দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের বড় অংশ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা কেটি মিলার শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন পতাকা বসানো একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। ছবিটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘এটা ঘটছে।’ তবে নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে ঠিক কী কী সুবিধা বা ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র পেতে যাচ্ছে, তা চুক্তি স্বাক্ষর ও বিস্তারিত প্রকাশের আগে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

সংগৃহীত ছবি, সুত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!