বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

পালটাপালটি হামলায় বেড়েছে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানলে ‘ইরানও মানবে’

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

পালটাপালটি হামলায় বেড়েছে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানলে ‘ইরানও মানবে’

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইরান জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধে জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্র্বতী চুক্তির শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে চললে তারাও তা মানবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর আরও হামলার হুমকি দেওয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ইরান এ বার্তা দিল।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জুলাইয়ের শেষভাগের পর প্রথমবার সরাসরি পালটাপালটি হামলার ঘটনায় তেলের দাম বেড়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে আসার সময় দুটি ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার বন্দর আব্বাসের কাছে হরমুজে ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ছয় মাস চলা এ সংঘাত মূলত একটি অর্থনৈতিক অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছিল। এর জবাবে ইরান রাতে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সোমবার ফক্স নিউজের প্রতিবেদক জানান, ট্রাম্প চ্যানেলটিকে বলেছেন, ‘আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব। এর জবাব দেওয়া হবে।’ তবে প্রেসিডেন্ট আলাদাভাবে সাংবাদিকদের বলেন, নতুন করে চালানো এসব হামলা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত নয়।

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এ পালটাপালটি হামলা ছিল একটি ‘সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত সংঘাত’। তবে তিনি এও জানান, আবার আক্রান্ত হলে তেহরান কঠোর জবাব দেবে। এ অবস্থায় কোনো পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে যেতে চায় না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পরবর্তী যে কোনো হামলার জবাবে পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার এটিই স্পষ্ট করে—নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে চলতে থাকা এ সংঘাত যে কোনো সময় সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

ইরান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা

তেহরান বারবার বলে আসছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌচলাচলের সুযোগ তখনই দেবে, যখন ওয়াশিংটন সেই সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়ন করবে। জুনে উভয় পক্ষের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। এ প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলছি—যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা স্মারকের আওতায় তাদের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী কাজ শুরু করে, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও অবিলম্বে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।’

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) এক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছিলেন। এ সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া, চীন, ভারত ও পাকিস্তান রয়েছে। সোমবার তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ কারও জন্যই কল্যাণকর নয়। তেহরান এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রেখেছে।

তবে পরিস্থিতির কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং এ সপ্তাহে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের প্রধান অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম মঙ্গলবার আরও ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ওয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, এদিন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে ৯২ দশমিক ২৭ ডলারে।

পিভিএম-এর বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা সেসব মানুষের ধারণাকেই সত্য বলে প্রমাণ করছে, যারা মনে করেন এটি হয়তো চিরস্থায়ী যুদ্ধ নাও হতে পারে। তবে দীর্ঘকাল চলতে থাকবে।’

শিপিং-সংক্রান্ত তথ্য ও ট্র্যাকিং সংস্থা মারিস্কস এবং কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এমন উদ্বেগের মধ্যেই সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সৌদি আরবের তেলবাহী দুটি সুপার ট্যাংকার অল্প সময়ের ব্যবধানে অজ্ঞাত কোনো বস্তুর (প্রজেক্টাইল) আঘাতের শিকার হয়। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!