বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি ইস্যুতে এবার বৃটেনকে হুমকি দিল ইসরাইল

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি ইস্যুতে এবার বৃটেনকে হুমকি দিল ইসরাইল

ডেইলি খবর ডেস্ক: এবার বৃটেনকে হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। দখলীকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের নিন্দা জানিয়েছে বৃটিশ সরকার। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসছে দুই দেশ থেকেই। এই অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কারণে বৃটেন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করছে। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মনে করেন ইসরাইল এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নীতির লাল সীমা অতিক্রম করছে।

এর জবাবে ইসরাইল বলেছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে তারা। মঙ্গলবার বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইলের বিষয়ে সরকারের নীতিতে ‘নতুন করে পরিবর্তন’ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে বৃটেনের এক মন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি থেকে আসা পণ্য সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এর জবাবে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার বলেন, বৃটেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তার সরকারও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

গিদিয়ন সার বলেন, বৃটেন যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, ইসরাইলও বৃটেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ইসরাইলি ভাষার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, তারা যদি এমন পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমার মনে হয় তারা বড় ধরনের ভুল করবে।

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সতর্ক করে বলেছেন, বিতর্কিত একটি বসতি নিয়ে ইসরাইলের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের সঙ্গে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ‘শেষ’ করে দিতে পারে। বৃটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে বার্নহাম বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরাইলের ই-১ বসতি নিয়ে দেয়া বক্তব্য নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেন, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে ‘বিপন্ন বা শেষ’ করে দিতে পারে। ইসরাইল ই-১ বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতিকে অবৈধ হিসেবে অভিহিত করে বৃটিশ সরকার এর নিন্দা জানিয়েছে। বৃটেনের সরকার বলেছে, ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

লেবার পার্টির এমপি ডেবি আব্রাহামসের এক প্রশ্নের জবাবে হাউস অব কমন্সে বার্নহাম বলেন, ই-১ সম্প্রসারণ এবং সেখানে বসতি স্থাপনের বিষয়ে আমরা সত্যিই বেশ উদ্বেগজনক বক্তব্য দেখেছি। দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। আমার ধারণা নির্বাচনের আগেই ইসরাইল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে বিপন্ন করতে পারে, এমনকি তা শেষও করে দিতে পারে। তাই এসব বিষয় অত্যন্ত জরুরি। এগুলোর মোকাবিলা করা প্রয়োজন এবং আমি বিশ্বাস করি, খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে হাউসকে বিস্তারিত জানাব।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরে নতুন ইসরাইলি বসতিতে বৃটিশ কোম্পানিগুলোর অর্থায়ন, নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ কিংবা বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয় কীভাবে বন্ধ করা যায়, তা সরকার পর্যালোচনা করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি ই-১ প্রকল্পকে ‘লালসীমা অতিক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই প্রকল্প পশ্চিম তীরের কেন্দ্রস্থল দিয়ে চলে গেছে এবং এর ফলে একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়ছে।

এড মিলিব্যান্ড বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রক্রিয়াকে ধ্বংসের বিষয়টি (বৃটেনের) এই সরকার মেনে নেবে না। আমরা ব্যবস্থা নেব এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি একটি সমন্বিত পদক্ষেপের প্যাকেজ তুলে ধরব। আমাদের পুরো নীতিতে একটি সমন্বিত পরিবর্তন প্রয়োজন। হাউসের উভয় পক্ষের অনেক সদস্য শুধু বাণিজ্যের বিষয়েই নয়, বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ে এসব কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে যে বিষয়টি উঠে এসেছে, সেটিও রয়েছে।

এদিকে বৃটিশ মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নীতিতে এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপও নেয়া হতে পারে। ডাউটি বলেন, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং আমরা যে বসতিস্থাপনকারী সন্ত্রাসবাদ দেখেছি, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি আমরা। ই-১ প্রকল্পের প্রস্তাব এবং সব অবৈধ বসতিরও আমরা নিন্দা জানিয়েছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে আমরাও এই প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়েছি এবং ইসরাইল সরকারকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!