ডেইলি খবর আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নিশ্চিত হতে যাচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৯ সেন্ট বা ০.২৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৬.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও ১৯ সেন্ট বা ০.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৭২.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। এই বৃদ্ধির ফলে চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ বাড়তে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের হিসাবে প্রতি লিটার তেলের দাম কত?
আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কেনাবেচা হয় ‘ব্যারেল’ হিসাবে (১ ব্যারেল = ১৫৮.৯৮৭ লিটার)। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৬.৪৯ ডলার। বিনিময় হার অনুযায়ী ১ মার্কিন ডলার সমান ১২০ টাকা ধরলে, প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়ায় ৯ হাজার ১৭৮.৮০ টাকা। সেই হিসাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পড়ে প্রায় ৫৭ দশমিক ৭৩ টাকা। অন্যদিকে প্রতি লিটার অপরিশোধিত ডব্লিউটিআই তেলের দাম পড়ে প্রায় ৫৪ দশমিক ৫৫ টাকা।
উল্লেখ্য, এটি সম্পূর্ণ অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদর। এই তেল আমদানির পর রিফাইনারি বা শোধন খরচ, ফ্রেইট বা জাহাজ ভাড়া, বীমা, শুল্ক-কর এবং বিপণন খরচ যুক্ত হয়ে স্থানীয় বাজারে খুচরা মূল্য নির্ধারিত হয়।
থমকে আছে হরমুজ প্রণালি
তেল বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভান্দা ইনসাইটসের’ প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বর্তমানে প্রায় বন্ধের কাছাকাছি। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই।
শিপ-ট্র্যাকিং বা জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, ওমানের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় কাতার থেকে ছেড়ে আসা একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজে ইরান হামলা চালানোর পর এই নতুন উত্তেজনা শুরু হয়। ঝুঁকি এড়াতে জাহাজের মালিকরা এই রুট ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এএনজে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা জোরদার করলেও, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ইরানের তেল বা জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত রয়েছে। এটি বাজারের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়। তাছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত বুধবার এক বিবৃতিতে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, তিনি মনে করেন না এই নতুন সংঘর্ষের কারণে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হবে। ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :