ডেইলি খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হামলা-উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে ওমানের তিনটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জাহাজগুলো ইরানের নির্ধারিত ‘অনুমোদিত করিডর’ এড়িয়ে বিকল্প পথে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করছে বলে জানিয়েছে নৌযান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো।
শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’-এর ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ওমানের এই ছোট নৌবহরে রয়েছে দুটি বিশাল তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার এবং একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই জাহাজ। লন্ডনভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, জাহাজগুলো লারক দ্বীপের কাছে ইরানের ‘অনুমোদিত করিডর’ ব্যবহার না করে ওমান উপকূলের ‘অস্বাভাবিক’ কাছাকাছি দিয়ে চলাচল করছে।
জাহাজগুলো তাদের অটোমেটিক আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সচল রেখেই এই পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো ঘটনা যেখানে কোনো জাহাজ ইরানি করিডর ব্যবহার না করে এই প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণত এই রুট দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো নিরাপত্তা এবং নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট করিডর ব্যবহার করে থাকে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের ট্রানজিট পয়েন্ট। যুদ্ধের কারণে এখন এই এলাকায় জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে। ওমানি জাহাজগুলোর এই কৌশলগত পথ পরিবর্তনকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
যদি এই জাহাজগুলো সফলভাবে তাদের যাত্রা সম্পন্ন করতে পারে, তবে তা অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। লয়েডস লিস্ট এবং অন্য বৈশ্বিক সংস্থাগুলো জাহাজগুলোর পরবর্তী অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা এই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :