শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানে এবার জ্বালানি সংকট: নৈশভোজ, নতুন গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাসহ আরো যেসব নির্দেশনা

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

পাকিস্তানে এবার জ্বালানি সংকট: নৈশভোজ, নতুন গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাসহ আরো যেসব নির্দেশনা

ডেইলি খবর ডেস্ক: জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তান সরকার নতুন করে বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো, সরকারি কাজে নতুন গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা, কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত এবং সরকারি নৈশভোজ আয়োজন বন্ধের মতো পদক্ষেপ রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কর্মী-সংক্রান্ত নয় এমন ব্যয়ের বাজেট ৫ শতাংশ কমানো হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

নতুন ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে, পাকিস্তানের সব সরকারি দপ্তরে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনা ছাড়া সব ধরনের টেকসই পণ্য কেনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আগামী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ সফর ও ভ্রমণও বন্ধ থাকবে। তবে বৃত্তির আওতাভুক্ত সফর এর বাইরে থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের সম্ভব হলে বৈঠকের জন্য টেলিকনফারেন্স ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহার ও সরকারি ব্যয়—দুটিই কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তা ছাড়া দেশটির সব ধরনের বিয়ের অনুষ্ঠান ও আয়োজনে মাত্র একটি পদ পরিবেশনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এর আগে চলতি বছরের মার্চেও পাকিস্তান সরকার একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। সে সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশটির সব স্কুল দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং সম্ভব হলে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল।

নতুন পদক্ষেপগুলো এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন পাকিস্তান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম।
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৪.১০ পাকিস্তানি রুপি এবং উচ্চগতির ডিজেলের দাম ৬.৪১ রুপি বাড়ানো হয়েছে। ফলে পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ৩৮৪.৩৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৪১৫.৮৩ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক জানিয়েছেন, জ্বালানি ত্রাণ প্রকল্পের মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশের চাপ ভোক্তাদের ওপর থেকে কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।

বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন একটি নীতির আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকদের প্রতি লিটারে ১০০ পাকিস্তানি রুপি—প্রায় ৩৬ মার্কিন সেন্ট—ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সুবিধার জন্য মাসিক জ্বালানি ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকবে।

আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। একদিকে জ্বালানির দাম বাড়ছে, অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসলামাবাদ।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!