আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি ‘অস্থির’ বা অনিয়মিত আচরণ করছেন বলে মনে করেন দেশটির ছয়জনের মধ্যে প্রায় চারজন নাগরিক। রয়টার্স/ ইপসোসের এক নতুন জনমত জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেয়া মোট উত্তরদাতার ৬১ শতাংশ ট্রাম্পকে বয়সজনিতভাবে ‘অস্থির’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ছয় দিনব্যাপী চলমান জরিপটি শেষ হয় গত সোমবার, এতে অংশ নেয় ৪ হাজার ৬৩৮ জন। সম্প্রতি আইনপ্রণেতা ও বিচারকদের উদ্দেশে একাধিক কঠোর মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে জরিপটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দলভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটদের ৮৯ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৩০ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারের ৬৪ শতাংশ ট্রাম্পকে বয়সের সঙ্গে ‘অস্থির’ হয়ে উঠছেন বলে মনে করেন।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গেল এই জরিপকে ভুয়া বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, ট্রাম্পের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, অতুলনীয় উদ্যম ও অভূতপূর্ব অ্যাক্সেসযোগ্যতা” তাকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চেয়ে আলাদা করে তোলে।
জনপ্রিয়তার হিসাবে ট্রাম্পের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। সর্বশেষ জরিপে ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কাজকে সমর্থন জানিয়েছেন, যা চলতি মাসের শুরুর তুলনায় দুই শতাংশ বেশি। যদিও মেয়াদ শুরুর সময় তার অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ, এপ্রিলের পর থেকে তা মোটামুটি এই পর্যায়েই রয়েছে।
বয়স্ক রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ-জরিপে অংশ নেওয়া ৭৯ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের নির্বাচিত রাজনীতিকদের বয়স এতটাই বেশি যে তারা সাধারণ নাগরিকদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে গড় বয়স প্রায় ৬৪ বছর এবং প্রতিনিধি পরিষদে ৫৮ বছর। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই মনোভাব আরও প্রবল। তাদের ৫৮ শতাংশ মনে করেন, সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার (৭৫) সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য অতিরিক্ত বয়সী।
ট্রাম্প জানুয়ারি ২০২৫-এ ৭৮ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। অভিষেকের দিন বয়সের দিক থেকে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। এরপর থেকে তিনি দ্রুতগতিতে একের পর এক নীতি ও প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বহু দেশের ওপর শুল্ক আরোপ এবং অবৈধ অভিবাসন দমনে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন।
সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ সুরও স্পষ্ট। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, সংরক্ষণশীল ধাঁচের মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তার আরোপিত বহু শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করায় তিনি চরমভাবে লজ্জিত। পরে তিনি ভিন্ন আইনি ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে নতুন করে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেন। এর আগে, নভেম্বর মাসে অবৈধ আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানাতে সেনাসদস্যদের আহ্বান জানানো ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলেও আক্রমণ করেন।
বাইডেনের বয়সই ছিল বড় ইস্যু-২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে বড় একটি কারণ ছিল বাইডেনের বয়স ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সন্দেহ। বাইডেন ৮২ বছর বয়সে দায়িত্ব ছাড়েন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ট্রাম্প জুনে ৮০ বছরে পা দেবেন এবং এই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে আছেন।
ফেব্রুয়ারির জরিপে মাত্র ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম’ বলে মনে করেছেন, যেখানে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৫৪ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৮১ শতাংশ এখনও তাকে সক্ষম বলে মনে করলেও, ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে এই হার নেমে এসেছে ১৯ শতাংশে। এছাড়া স্বতন্ত্রদের মধ্যে এ হার ৩৬ শতাংশ। সুত্র-রয়টার্স/ইপসোস জরিপ

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :