বুধবার, ০৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

হরমুজ প্রণালী অচল হলে থমকে যাবে বিশ^ অর্থনীতি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

হরমুজ প্রণালী অচল হলে থমকে যাবে বিশ^ অর্থনীতি

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইসরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সীমান্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরান। যারা অমান্য করে জাহাহ চালাণোর চেষ্টা করবে তাদের জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে জানরিয়েছে যুদ্ধরত ইনারীরা। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়তেই পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই পথটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী ২০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের সিংহভাগ তেল খনিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সরবরাহ সংকটের প্রভাব এরই মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্পষ্ট। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এলএনজির দাম বাড়তে পারে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর অপরিশোধিত জ্বালানির বাজারতো দামের বাঁধ না মেনেই এগিয়ে চলছে। 
এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দেশগুলোর একটি জাপান। দেশটির আমদানি করা তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। ইতোমধ্যে টোকিওর আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি ছাড়িয়েছে আড়াইশ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি সংকটের কারণে জাপানের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ জিডিপি এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিতেও।
জাপানের পরই রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির মূল উদ্দিপক রাষ্ট্র চীন। দেশটির মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই পথ দিয়ে। বাকি জ্বালানি আসে রাশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া থেকে। হরমুজে সরবরাহ বন্ধ থাকলে চীনের পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সংকট টানা তিন মাস চললে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ থেকে নেমে আসতে পারে সাড়ে ৩ শতাংশে। আর সংকট এক বছর স্থায়ী হলে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়ার শঙ্কা ৬৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে চীন এখনই প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে।
চীনের অর্থনীতিতে আঘাত মানে পুরো বিশ্বে আঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য কমে দাঁড়াতে পারে সাড়ে ৪‍‍`শ বিলিয়ন ডলারে, ইউরোপের সঙ্গে কমতে পারে সাড়ে তিনশ বিলিয়নে। বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচক কমতে পারে প্রায় ২৬ শতাংশ, আর বাজার থেকে হারিয়ে যেতে পারে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
সবমিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর এই ২০ শতাংশ তেল সরবরাহই এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় গলার কাঁটা। যুদ্ধ ও অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, পুরো বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পাশার দানই পাল্টে যেতে পারে।সংগৃহীত ছবি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!