ডেইলি খবর ডেস্ক: : কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সোচি উপকূলের কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটিতে থাকা ২৩ জন ভারতীয় নাবিক ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ‘নৌ-ড্রোন’ দিয়ে ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হয়। এতে কৃষ্ণসাগরের পানিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ে খোলা জলাশয়ে আগুন ধরে যায়। ভয়াবহ এ আগুনের কারণে অগ্নিনির্বাপক দলগুলো প্রথমে কাছেই ভিড়তে পারেনি। আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমলে পুনরায় নেভানোর চেষ্টা চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস ও জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র সোচি শহরের উপকূলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, সমুদ্রের বুকে দাউ দাউ করে কমলা রঙের আগুন জ্বলছে এবং আকাশে ধোঁয়ার তীব্র কালো মেঘ ফুটে উঠেছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় মেয়রের নির্দেশে উপকূল ও সৈকতগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর ঠিক একদিন আগে রোমানিয়া উপকূলে আরেকটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর তা ডুবে গিয়ে একজন নিহত ও একজন নিখোঁজ হন। ইউক্রেন দাবি করেছে, ভারতীয় এক ক্রু সদস্য আহত হওয়া ওই হামলাটি রাশিয়া চালিয়েছিল।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উভয় পক্ষ কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের পাল্টা দাবি, রাশিয়া প্রতিদিন তাদের শহরগুলোতে যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন চালায়, তার ন্যায্য জবাব হিসেবেই তারা রাশিয়ার তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়াও দিনদুপুরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও প্রাণকেন্দ্রে ড্রোন হামলা শুরু করায় উভয় পক্ষের আক্রমণ নতুন মাত্রা পেয়েছে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :