ডেইলি খবর ডেস্ক: আগামী ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ এতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা চাইছেন নির্বাচনের আগে সংঘাত যেন আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নেয়। নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে বর্তমান ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি।
এমন এক প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করে। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে তেল থেকে পাওয়া রাজস্বের প্রবাহ সহজতর করে এমন ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। একই সঙ্গে
তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্যান্য দেশকেও ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র হুমকি দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুদ্ধের গুরুত্ব কম করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। এখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী জনমত নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সংযম দেখানোরও স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মার্কিন নেতারা বলছেন, আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খোলা রয়েছে। ভ্যান্স চলতি সপ্তাহে বলেছেন, যা কিছু ঘটতে পারে, সবই বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক ও গোপন চাপও রয়েছে। ফলে আগামী দুই মাস ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র একদিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইবে, অন্যদিকে ইরানের নিজস্ব হিসাব-নিকাশ রয়েছে। তেহরান সামরিকভাবে জবাব দিতে পারে, যা নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা ওয়াশিংটন এড়াতে চাইছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তাদের অল্প ব্যবধানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না।
এর আগে যুদ্ধ আবার বড় আকারে ছড়িয়ে পড়লে আরও বেশি মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন। তাই নভেম্বর পর্যন্ত লড়াই নিয়ন্ত্রণে রাখা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা যুদ্ধকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকাতে পারে। আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধকে সমর্থন করেন। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেন। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্পের অনুমোদনের হারও ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :