ডেইলি খবর ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালির’ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর আজ রোববার (১২ জুলাই) ইরান তা বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলেছে, জলপথটি এখনো খোলাই রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অপরিহার্য এই প্রণালিটি দুই চরম শত্রুর মধ্যে এখন বিরোধের মূল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। গত মাসে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও, এই জলপথকে কেন্দ্র করে বারবার দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলছে।
সর্বশেষ এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে জলপথে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আরেকটি হামলার পর। হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর এর নাবিকরা সেটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে তেহরান এখন জোর দিয়ে বলছে যে, তারা এই প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করবে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন অনড় অবস্থানে রয়েছে যে, তারা তা হতে দেবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এবং এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
এর জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে আইনসম্মতভাবে যাতায়াত করতে চাওয়া সমস্ত জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
সেন্টকম জানায়, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত এবং মোতায়েন রয়েছে। তারা আরও যোগ করে, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নেই। জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। রোববার দেশটির সর্বোচ্চ নেতার একজন উপদেষ্টা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি কয়েক ডজন পরমাণু বোমার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইরনা জানায়, ইরান দাবি করেছে তারা হরমুজে দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের অভিযোগ, জাহাজ দুটি অনুমোদিত ট্রানজিট করিডোর ব্যবহারের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছে বা নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পুরো ইরান জুড়ে একের পর এক পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই সপ্তাহে তাদের তৃতীয় দফার হামলায় তারা ইরানের প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ইরানি গণমাধ্যম বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক এবং কেশম দ্বীপের পাশাপাশি খুজেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাস্কে একজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন-কে বলেন, ‘গত রাতে আমরা তাদের ওপর খুব জোরালো আঘাত হেনেছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, শনিবার দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও ইরান এই হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সবকিছু মেনে নিচ্ছিল, আর তার ঠিক দুই ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই তারা ড্রোন দিয়ে একটি জাহাজে হামলা চালাল।’
এএফপি-র সাংবাদিক এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়াও দ্রুত এসেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
কাতার জানিয়েছে, ইরানি হামলায় তিনজন আহত হয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে সতর্কতা জারি করলেও পরে জানায়, সেগুলো তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি।
কুয়েত জানিয়েছে, তারা হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে এবং জর্ডান জানিয়েছে, তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের ভূখণ্ডের ভেতরে এসে পড়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ওমানেও আঘাত হেনেছে, যা সাধারণত খুব কমই লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিনে তার বাবা ও পূর্বসূরি আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে।
ট্রাম্প শনিবার বলেছিলেন, তাকে হত্যার যেকোনো ধরনের চেষ্টা করা হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার রোববার তাঁর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসহাক দার বলেন, ‘বিরোধ নিষ্পত্তি এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর পথ হলো আলোচনা ও কূটনীতি।’সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :