শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

খামেনির শেষ বিদায়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

খামেনির শেষ বিদায়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ধরনের আক্রমণ থেকে বিরত থাকার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে তেহরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি বলেন, ‘আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনকে, যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছি। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’

যুদ্ধের প্রথম দিনে বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের শোকযাত্রা ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আগামী শনিবার রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। এরপর কয়েক ধাপে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ায় তার মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

খামেনির মরদেহ রাসায়নিকভাবে নয় বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেই মনে করেন অনেকে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রাম-এর চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ বা এমবামিং সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া ইসলামী আইন অনুযায়ী দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে।

এদিকে, ইরানের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ গালিবাফ জনগণের প্রতি ব্যাপকভাবে শোকযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। এই বিশাল আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন, আবাসন ও অন্যান্য নাগরিক সেবার বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান চলাকালে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার প্রধান বুধবার জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তেহরান ও মাশহাদসহ কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!