ডেইলি খবর ডেস্ক: বিরতির মধ্যেই কয়েক দিনের বিক্ষিপ্ত উত্তেজনার পর হরমুজ প্রণালির চারপাশে এখন তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করে শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য ইরানকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সাড়া মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। যুদ্ধ অবসানের অগ্রগতি নেই বললেই চলে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
আগামী সপ্তাহে (১৪-১৫ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু হওয়ার কথা। এ জন্য সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে যুদ্ধের উত্তেজনা তৈরি হয়। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে আক্রমণের শিকার হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির অবরোধ নিরসনে একটি আন্তর্জাতিক মিশনে যোগদানের জন্য প্রস্তুত থাকতে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির একটি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। এক বিবৃতিতে মস্কো জানিয়েছে, স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকে বিপন্ন করা যাবে না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ব্যারেলসহ তেল বিক্রির বিষয়ে ইরান চীনাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। ইরান বলছে, হরমুজের ওপর তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে তারা সেই নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে ইচ্ছুক।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে উপসাগরে আটকে রয়েছে ২০ হাজার নাবিক। তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। যুদ্ধে অন্তত ১১ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরও কয়েক মাস ধরে চললেও ইরান তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে।
‘যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ
শুক্রবার প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি এখন শান্ত হয়েছে। তবে আরও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়ে গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টাকারী দুটি জাহাজে হামলা করে সেগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক অভিযান বেছে নেয়।
নিষেধাজ্ঞা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নিষেধাজ্ঞাও বাড়িয়েছে। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ১০ জন ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তাদের মধ্যে চীন ও হংকংয়ের বেশ কয়েকজনও রয়েছে। তেহরানের শাহেদ ড্রোন তৈরির জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র ও কাঁচামাল সংগ্রহে ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার দায়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবৈধ বাণিজ্যে সমর্থনকারী চীনসহ যে কোনো বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।’ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :