ডেইলি খবর ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ‘পারমাণবিক অস্ত্র’ ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইনের বাধা মুখে এই চেষ্টায় ব্যর্থ হন তিনি। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ল্যারি জনসনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিরর জানিয়েছে, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প ‘পারমাণবিক সঙ্কেতগুলো’ হাতে পাওয়ার চেষ্টা করেন।
ল্যারি জনসনের দাবি অনুযায়ী, শনিবারের সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে সঙ্কেত বা ‘কোড’ চান। তখনই জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘নো’। সামরিক বিশেষাধিকার প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তে বাধা দেন বলে জানা গেছে।
যদিও সামরিক বাহিনীর চেইন অফ কমান্ডের শীর্ষে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট (কমান্ডার-ইন-চিফ)। তারপরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদধারী।তবে এই খবরের কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এখনও পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ‘পারমাণবিক সংকেত’ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন বা উৎক্ষেপণের নির্দেশ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ গোপন প্রমাণিকরণ কোড। এটি প্রেসিডেন্টকে পারমাণবিক আক্রমণের অনুমোদন দিতে সাহায্য করে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ইরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযান চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। ট্রাম্পের মেজাজ ও অস্থিরতা অভিযানের সাফল্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে-এমন আশঙ্কায় সামরিক উপদেষ্টারা তাকে আলোচনার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। চলতি মাসের শুরুতে ইরানি বাহিনীর হামলায় মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ট্রাম্প কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপক চিৎকার ও চেঁচামেচি করছিলেন বলে জানা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যদিও বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু ‘পারমাণবিক সঙ্কেত’ ব্যবহারের এই খবরের পর ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে এক ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :