আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের পরিকল্পনা এখনও শেয়ার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চললেও এর পরিণতি কী হবে— তা এখনও অনিশ্চিত। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি যেকোনও দিকে মোড় নিতে পারে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কোনও পরিকল্পনা শেয়ার করেনি বলে শনিবার জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা তাদের পরিকল্পনা জানাতে পারি না। পরিকল্পনাটা হলো— ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। দেখা যাক আমরা কিছু করতে পারি কি না, নইলে কী হয়, সেটাও দেখা যাবে।’
এই মন্তব্যগুলো পরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা হয়। সেখানে ট্রাম্প আরও বলেন,ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলের দিকে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠাচ্ছে। তার ভাষায়, এই সামরিক প্রস্তুতি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগের এক সামরিক অভিযানের আগে মোতায়েন করা বাহিনীর চেয়েও বড়। ওই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছিল।
ট্রাম্প স্বীকার করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে, তবে এর ফলাফল কী হবে, তা নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘শেষবার তারা যখন আলোচনা করেছিল,তখন আমাদের পক্ষ থেকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হয়েছিল, কিন্তু সেটাতে কাজ হয়নি। এরপর আমরা অন্যভাবে সেটা বন্ধ করেছি। এখন দেখা যাক কী হয়।’
এখানে ট্রাম্প গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলা সম্পর্কে তিনি আগেও দাবি করেছিলেন, এতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে তার হুমকি বাস্তবায়ন না করেন, তবে তেহরানের সরকার আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ওয়াশিংটনে এক গোপন বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন বলে ওই বৈঠকে উপস্থিত চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক উত্তেজনার ইস্যুতে সৌদি আরবের প্রকাশ্য অবস্থানের ঠিক উল্টো মেরুতে এই মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। জনসমক্ষে তারা সেই উত্তেজনা বাড়ানোর বিপক্ষে কথা বলছিল। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ইরানে হামলা না চালাতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সতর্কবার্তার কারণেই ট্রাম্প হামলার সিদ্ধান্ত পিছিয়েছিলেন।
সৌদি যুবরাজ সালমানের ছোট ভাই এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী হলেন খালিদ বিন সালমান। ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতেই তিনি ওয়াশিংটন সফরে গেছেন। এদিকে মার্কিন সামরিক অভিযানের আতঙ্কে দিন গুনছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। ইরানও হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, তাদের জবাব হবে ‘নজিরবিহীন’।ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :