ডেইলি খবর ডেস্ক: কলম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নর্তে দে সান্তান্দের বিভাগের একটি গ্রামীণ এলাকায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির একজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের একজন পদপ্রার্থীও রয়েছেন বলে সরকারি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা ‘সাতেনা’ পরিচালিত এই ছোট বিমানটি কুরাছিকা নামক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। কলম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে যে বিমানে থাকা কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যই বেঁচে নেই।
নিহতদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন দিওজেনেস কুইনতেরো, যিনি কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের শিকার হওয়া ৯ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির নিম্নকক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি তার অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত মানবাধিকার রক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এছাড়া বিমানে তার দলের সদস্য নাতালিয়া অ্যাকোস্টা এবং আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী কার্লোস সালসেদোও ছিলেন। কুইনতেরো ২০২২ সালে শান্তি চুক্তির অধীনে সৃষ্ট বিশেষ ১৬টি আসনের একটি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন,যা কলম্বিয়ার সংঘাতকবলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে গণ্য করা হতো।
বিমানের যাত্রাপথ সম্পর্কে জানা গেছে যে,‘এইচকে৪৭০৯’ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের এই বিমানটি স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে সান্তান্দেরের রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে ওকাñধর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। সাধারণত এই রুটে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। তবে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে কলম্বিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যারা এই ধ্বংসলীলার নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি প্রতিকূল আবহাওয়া দায়ী ছিল তা খতিয়ে দেখবে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিয়া মার্কেজও এই অপূরণীয় ক্ষতিতে শোক প্রকাশ করে বলেন যে, এই ঘটনা পুরো দেশকে শোকাহত করেছে।
কুইনতেরোর রাজনৈতিক দল ‘ইউ পার্টি’ তাকে একজন প্রতিশ্রæতিবদ্ধ এবং জনসেবায় নিবেদিত প্রাণ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভেনেজুয়েলা সীমান্ত সংলগ্ন এই উত্তাল অঞ্চলে কুইনতেরোর অকাল প্রয়াণ মানবাধিকার রক্ষায় এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন তার সতীর্থ ও শুভাকাঙ্খীরা। ছবি: মানিকন্ট্রোল,সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :