শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

কঙ্গোর স্কুলে আগুন, শিক্ষার্থীসহ ২৯ জনের মৃত্যু

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

কঙ্গোর স্কুলে আগুন, শিক্ষার্থীসহ ২৯ জনের মৃত্যু

ডেইলি খবর ডেস্ক: গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বুকাভু শহরে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও চিকিৎসাকর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানান, শহরের চিমপুন্ডা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের একটি বসতি ও দুটি স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে- জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীও রয়েছে। বুকাভু পূর্ব কঙ্গোর দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী। বর্তমানে শহরটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এখনো চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘ পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে আগুন লাগে। এ সময় উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুরাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পাশের একটি বসতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়।

তাদের কাছের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপগভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েংয়ে রয়টার্সকে বলেন, আগুনে দুটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে এএফপিকে বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একে অপরের ওপর পড়ে যায় এবং পায়ের নিচে চাপা পড়ে। কেউ কেউ বের হওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেয়। অনেক শিক্ষার্থী এ সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
বুদুগে জানান, এই হুড়োহুড়ির মধ্যেও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। লরেন্স কানিউকা জানান, আগুনে আহত ২৯ জন বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত ১৭ জন কাদুতু সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরো চারজন বুকাভু প্রাদেশিক সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে এএফপিকে বলেন, আগুনের পর তার চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়। তাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। অনেকের শ্বাসকষ্টের অবস্থা গুরুতর ছিল। জিগাশানে বলেন, কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে আগুনে বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়তে দেখা গেছে। আগুনের শিখা পরে পাশের দুটি স্কুলেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতের সংখ্যাও এখনো চূড়ান্ত নয়। এএফসি/এম২৩ জানিয়েছে, আগুনের খবর পাওয়ার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তদন্ত চলাকালে সবাইকে শান্ত থাকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এএফসি/এম২৩। একই সঙ্গে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের অভিযান জোরদার করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ গোষ্ঠী বুকাভুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বুকাভুতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কঙ্গোর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবারের একটি আগুনে ৪৫টির বেশি বাড়ি পুড়ে যায়। তবে এসব অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বৃহস্পতিবারের আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!