আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভ অনুষ্টিত হচ্ছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মিনিয়াপলিসের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির উত্তরের এই শহরটিতে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন বিশিষ্ট মার্কিন সাংবাদিক অভিযুক্ত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘ন্যাশনাল শাটডাউন’ বা ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের নেতৃত্বদানকারী সংস্থা আইসিই-এর বিরুদ্ধে ¯েøাগান দিয়ে মিছিল করে। চলতি মাসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর মিনিয়াপলিস এখন অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এ প্রসঙ্গে ২৪ বছর বয়সী সুষমা সান্তানা এএফপি-কে বলেন, ‘আমার মনে হয় না ফেডারেল সরকারের উচিত এভাবে মানুষকে আতঙ্কিত করা।’ বিক্ষোভকারীরা এসময় সমস্বরে ‘রাজপথ আমাদের’ বলে ¯েøাগান দিচ্ছিলেন।
শহরের একটি আইসিই-বিরোধী কনসার্টে রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন পারফর্ম করার সময় প্রচন্ড শীতের মধ্যেই বিশাল জনসমাগম হয়। স্প্রিংস্টিন সম্প্রতি নিহত দুই বিক্ষোভকারীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে "স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপলিস" শিরোনামে একটি গান রিলিজ করেছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। গত বছর সেখানে অভিবাসীদের ওপর চালানো অভিযানের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ এদিন সিটি হলের সামনে অবস্থান নেয়।
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ-শুক্রবার সকালে ট্রাম্প প্রশাসন সাবেক সিএনএন অ্যাঙ্কর ডন লেমনসহ আটজনের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। ডন লেমন এবং অন্য সাংবাদিকরা একটি গির্জায় বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করছিলেন, সেখানে একজন আইসিই কর্মকর্তা যাজক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
লেমনের আইনজীবী জানান,তাকে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন,তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট (বাকস্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার) লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজ এবং `কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস` এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নাগরিক অধিকার বিষয়ে তদন্ত-নিহত ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রেটি সম্পর্কে ট্রাম্প তার আগের নরম সুর পরিবর্তন করেছেন। প্রেটির একটি নতুন ভিডিও ফুটেজ সামনে আসার পর ট্রাম্প তাকে একজন ‘আন্দোলনকারী এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওই ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি এজেন্টদের গাড়ির পেছনের আলো লাথি দিয়ে ভাঙছেন, যার পরেই এজেন্টরা তাকে মাটিতে চেপে ধরে।
তবে অনেক বাসিন্দা এতে সন্তুষ্ট নন। পেড্রো উলকট নামে একজন ল্যাটিনো দোকানদার বলেন, ‘গাড়ির আলো ভাঙার জন্য কি কারো মৃত্যু প্রাপ্য?’ মার্কিন বিচার বিভাগ প্রেটির মৃত্যুর ঘটনায় নাগরিক অধিকার নিয়ে তদন্ত শুরু করলেও জানুয়ারি মাসে নিহত রেনি গুডের জন্য এমন কোনো তদন্ত শুরু হয়নি।
সরকারি অচলাবস্থার আশঙ্কা-ট্রাম্প পরিস্থিতি প্রশমিত করার কথা বলে মিনিয়াপলিসে নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন টম হোমানকে। হোমান জানিয়েছেন,স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করলে তারা সেখানে মোতায়েন করা তিন হাজারেরও বেশি ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে,প্রেটি এবং গুড-এর মৃত্যুর জেরে এই রাজনৈতিক লড়াই এখন কংগ্রেসে পৌঁছেছে। ডেমোক্র্যাটরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলোর ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ না করা পর্যন্ত তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জন্য কোনো অর্থায়ন বরাদ্দ করবেন না। এতে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :