আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবার মুখোমুখি বসতে যাচ্ছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এই তিন দেশকে নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হলেও তা থমকে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে দেখা করার পরই মূলত থমকে থাকা এই আলোচনা আবার চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তবে এই বৈঠক থেকে বড় কোনো সমাধান আসবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকে যাচ্ছে। কারণ রাশিয়া এখনও তাদের কঠোর শর্তগুলোতে অনড় রয়েছে। তারা চায় ইউক্রেন যেন কখনো সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ না দেয় এবং তাদের এলাকার একটি বড় অংশ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের কড়া সমালোচনা করলেও তিনি রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন এবং তাদের থেকে ডিজেল কেনার চুক্তিও করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে ইউরোপীয় নেতারা বেশ চিন্তিত। তাদের ধারণা, এতে রাশিয়া আরও সুযোগ পেয়ে যাবে। এর মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনী স্যাটেলাইট প্রযুক্তি `স্টারলিংক` এবং মার্কিন তথ্য পেতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও একটি ভালো খবর হলো, শুক্রবার দুই দেশ নিজেদের মধ্যে ২৭০ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী নভেম্বরের এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক যুদ্ধের কোনো ইতিবাচক ইতি টানতে পারে কি না। সংগৃহীত ছবি,সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :